দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫০টি কূপ খনন ও মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ২৯টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কূপগুলোর কাজও চলছে।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এসব কথা বলেন। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।
বাপেক্স ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, সরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠান দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ করছে। সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা ১৫০টি কূপ খনন ও মেরামতের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ চলছে। এর মধ্যে ২৯টি কূপের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বাপেক্সের পাঁচটি রিগ কাজ করছে। আরো দুটি রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। তার মতে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
বন্ধ ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে বাপেক্সের এমডি বলেন, রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সেখানে মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। এক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। তবে তিনি বলেন, দেশের চাহিদার তুলনায় এ পরিমাণ খুবই কম।
তিনি আরো বলেন, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপেও মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রেও সম্প্রতি মেরামতের কাজ করে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগে কিছু অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দেশের পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র বা বড় মজুতের সন্ধান পাওয়া গেলে সরবরাহ আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।










