গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে তথ্য অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘অনতিবিলম্বে তথ্য কমিশন গঠন এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার পরোয়া না করে। সেই সরকার তথ্য কমিশনকে দেড় বছর প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকার পরও তথ্য কমিশন গঠন না হওয়া বিব্রতকর।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে চোরতন্ত্রের রাষ্ট্রশাসনে তথ্য অধিকার কমিশনকে অন্য কমিশনগুলোর মতো অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তাদের সে সময়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তথ্য কমিশন গঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—দলীয় প্রভাবমুক্ত ও যোগ্যদের নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করা; অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারীকৃত তথ্য অধিকার অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পেশ করার আগে তথ্য অধিকার ফোরাম প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বিবেচনা করা ও আবার জনমত গ্রহণের জন্য প্রচার করা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের দেশের দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে উন্মুক্ততার সংস্কৃতিতে উত্তরণ একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকার এক্ষেত্রে ভালো কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তথ্য কমিশন গঠন না করে তারা এক নজিরবিহীন বিশ্ব রেকর্ড করেছে।’

সরকারের ইচ্ছাধীন না রেখে সরাসরি আইনের মাধ্যমে তথ্য কমিশনের প্রধান ও অন্যান্য কমিশনারের পদমর্যাদা সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম। এতে আরো বক্তব্য দেন সাবেক শ্রমবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান ও নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন।