কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চাঁদপুর জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের পাকা আমন ধান, বোরো বীজতলা, সরিষা, গম, পেঁয়াজ, আলুসহ শাকসবজি ক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, জেলায় ১০ হাজার ১৬৩ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৭ হাজার ৮৪২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার গ্রামাঞ্চল ও চরাঞ্চলে। এসব এলাকায় পানিতে ভাসছে ফসল ও সবজির ক্ষেত। সদ্যরোপণকৃত আলুসহ সরিষা, গম, পেঁয়াজ, মরিচ ও শাক-সবজির ক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে দিশেহারা কৃষকরা।

কৃষক ছলু শেখ জানান, টানা বৃষ্টিতে তার সরিষা আবাদ করা জমিটি এখনো পানির নিচে। এতে সরিষার চারাগুলো মরে যাচ্ছে। এখন তার পুঁজি ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মতো আরো কয়েকজন কৃষক জানান, বৃষ্টির পানিতে আমাদের রোপা আলুবীজ নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন সমিতি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছি। পুনরায় চাষাবাদ করার জন্য কোথায় বীজ পাবেন, পেলেও কেনার টাকা আসবে কোথা থেকে সেই চিন্তায় দিশেহারা তারা।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার আট উপজেলায় ১ হাজার ৫২১ হেক্টর জমির বোরো বীজতলা, সদ্যরোপণকৃত ১ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমির আলু, ১ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমির সরিষা, ৩৭ হেক্টর জমির গম, ১৩৪ হেক্টর জমির পেঁয়াজ, ১৬৫ হেক্টর জমির মরিচ, ২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি ও ৭৬৪ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপসহকারী কৃষি অফিসার নরেশ চন্দ্র দাস বণিক বার্তাকে জানান, জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।