তথ্য প্রযুক্তিখাতের মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এ খাতের ৩০ সংস্থাকে অকেজো সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, যেহেতু তথ্য-প্রযুক্তিখাতে প্রচুর বেসরকারি ও বিদেশী বিনিয়োগ জড়িত। তাই ক্ষেত্রটিকে সুশৃঙ্খল করতে সম্প্রতি একটি নতুন তথ্য-প্রযুক্তি নীতি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পাস করানো হয়েছে।

শনিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর গ্রিনরোডে দুইদিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (আইসিবিটি)-২০২৫ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) স্কুল অব বিজনেস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও জার্মানির ওয়েইডেন বিজনেস স্কুল ও ইনস্টিটিউট অব সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়োরাল সায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, নতুন নীতি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পূর্ণ সুবিধা নেয়া। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী সংস্থাগুলোকে বাদ দেয়া হবে। নীতি নির্ধারকরা দেখতে পান, মূল সংযোগ কেন্দ্র (গেটওয়ে) থেকে মোবাইল অপারেটরদের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছানোর পথে অনেক মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠান বা হাব ছিল।

তার মতে, প্রায় ৩০টি সংস্থা এ পথে কাজ করত, যাদের প্রকৃত পক্ষে কোনো প্রয়োজন ছিল না। এদেরকে ‘অকেজো সুবিধাভোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন মূল সংযোগ কেন্দ্র থেকে সরাসরি মোবাইল অপারেটর বা অন্য ইন্টারনেট সরবরাহকারী সংস্থার কাছে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা কমবে এবং অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে।

দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) খাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নতুন নীতি অনুসারে, বেসরকারি উদ্যোক্তারা প্রথমবারের মতো সৌরশক্তি উৎপাদন করে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রিডে বিক্রি করতে পারবেন। একই সঙ্গে তথ্য যোগাযোগ খাতে অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্ত্বভোগী সংস্থাগুলোকে বাদ দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তগুলো বাজারের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে ব্যবসায়িক পরিচালন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।