পিরোজপুরের ইন্দুকানীতে চাচা শ্বশুরকে হত্যার দায়ে জামাই মো. হাসিবুল ইসলাম ওরফে কাঞ্চন (৩৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. মহিদুজ্জামান এ দণ্ডাদেশ দেন। সেই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তকে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানারও আদেশ দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত মো. হাসিবুল ইসলাম ওরফে কাঞ্চন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত কাঞ্চন ইন্দুরকানী উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামের মো. আবু বকর বেপারীর ছেলে।

বালিপাড়া ইউনিয়নের ৬নং খোলপটুয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন আবু জানান, কাঞ্চন বেপারীর সাথে চর বলেশ্বর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ের সাথে কয়েকবছর আগে বিবাহ হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। কাঞ্চন ও তার স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে কাঞ্চনের স্ত্রী মুনিয়া আক্তার তার বাবা খালেকের বাড়িতে চলে যায়। কাঞ্চন তার স্ত্রীর সাথে কলহের জন্য তার চাচা শ্বশুর রেজাউল করিম হাওলাদার ওরফে রিপনকে দায়ী করে আসছিলেন।

এরই জেরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর বিকেলে রেজাউল করিম হাওলাদার ওরফে রিপন উপজেলার  বালিপাড়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে গেলে সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা কাঞ্চন তাকে কুঠার দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রেজাউল করিম হাওলাদার ওরফে রিপন।

৫ নং চন্ডিপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হাওলাদার জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা কাঞ্চনকে ধরে চণ্ডিপুর পুলিশ ফাড়িতে সোপর্দ করেছে।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত রেজাউল করিম হাওলাদার ওরফে রিপনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার হাসি বাদী হয়ে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্দুকানী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ড দেন।