কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম এলাকার দেখা দিয়েছে ধরলার তীব্র ভাঙন। ভাঙনে নদী গিলছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। অব্যাহত ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
গতকাল দুপুরে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের মেলেটারির চর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব মানববন্ধনে আসা আলতাফ হোসেন বলেন, গত এক মাস থেকে এ এলাকায় ধরলার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে আমার বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমি পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
মহির উদ্দিন নামের অন্য একজন বলেন, নদী ভাঙনের কারণে এ পর্যন্ত আমি কয়েকবার আমার বসতভিটা হারিয়েছি। এবারের ভাঙনেও আমার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন আর আমার বসতি গড়ে তোলার কোনো জমি নেই। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার ওয়ার্ডের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধরলার ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধরলার ভাঙনে এ অঞ্চলের ৪০টিরও বেশি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এখনো শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। আমন ধানের খেত, ভুট্টা ও কলার খেতসহ শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, বড়ভিটা ইউনিয়নে ধরলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে নিঃস্ব মানুষের তালিকা। আমি ভাঙন রোধে উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
অন্যদিকে একই দাবিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর
চর বটতলা দুধকুমার নদীর পূর্বপাড়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিলাই ইউনিয়নে দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় ভাঙন রোধের কোনো প্রকল্প নেই।










