সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা স্টেশনের আমুরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির এলাকায় লাগা আগুন দ্বিতীয় দিনের মত জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি দল। তারা হেলিকপ্টারে করে বেলা সাড়ে বারোটা থেকে অগ্নিকাণ্ডের শিকার বনভূমি এলাকায় পানি দেয়া শুরু করেছে।

এর আগে আগুনের খবর পাওয়ার দ্বিতীয় দিনে রোববার (৫ মে) ভোর থেকে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের আগুন নেভানোর জন্য বিমান বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার যোগ দেয়।

সকালে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে ঢাকা থেকে আসে। তারা পর্যবেক্ষণ শেষে ৮টা ৫ মিনিটে ফিরে যায়। এরপর আরো একটি হেলিকপ্টার সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটে রওয়ানা হয়ে আসে। এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন বিমান বাহিনীর ১৭ জন সদস্য। আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইং কমান্ডার রাজীব। তাদের সহযোগিতায় বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি যোগ দেয় কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর দুটি আলাদা দল।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম তারেক সুলতান বলেন, বেলা সাড়ে বারোটা থেকে বিমান বাহিনী হেলিকপ্টারে করে পানি দেয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি ফায়ার ফাইটিংয়ের নিযুক্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজ সহযোগিতা করছে বন বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবক, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়। আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে বলেও জানান তিনি। 

এরই মধ্যে অন্তত ৩ কিলোমিটার এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। বনাঞ্চলের ঝুঁকি বিবেচনায় রাতে অগ্নিনির্বাপণ কাজ স্থগিত থাকলেও সকাল থেকে আবারও কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও সেচ্ছাসেবকরা। তাদের সহযোগিতায় যোগ দিয়েছে কোস্ট গার্ড ও নৌ-বাহিনীর দুটি পৃথক দল।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, আগুন নির্বাপণে সকাল থেকে সম্মিলিতভাবে আবারও কাজ শুরু করেছি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেবকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।