ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড (বিডিইও) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্ব। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়ে অর্থনৈতিক জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় তুলে ধরেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে শনিবার সকালে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে বাছাই পরীক্ষা, স্ক্রিপ্ট মূল্যায়ন, মূল অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা তিন ক্যাটাগরিতে অর্থনৈতিক যুক্তি, তাত্ত্বিক জ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিডিইওর নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ। প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। সভাপতিত্ব করেন বিডিইওর চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ড. সায়েমা হক বিদিশা। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
বিডিইওর সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ জানান, বাংলাদেশ ইকোনোমিকস অলিম্পিয়াড তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্থনৈতিক জ্ঞান অর্জনের প্রয়াস ছড়িয়ে দিচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের টিম আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে চারটি পদক অর্জন করে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা অপরিহার্য। অলিম্পিয়াড শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। বরং এটি তরুণদের জন্য একটি শিক্ষামূলক প্লাটফর্ম যা তাদের বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, আমরা প্রতিভা লালনে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে যারা জাতীয় সমস্যার নিরসন করবে, আমি এই প্রতিযোগিতাকে তাদের জন্য একটি পথপ্রদর্শন বলতে পারি। ব্যক্তিগত সাফল্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কতটা সম্পদশালী বা দক্ষ।
জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত বাছাই পর্ব শেষে তিনটি ক্যাটাগরিতে শীর্ষ বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হয় এ আয়োজনে। জুনিয়র ক্যাটাগরি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে তানজিম কামাল, শাহীর হাসনাইন ও এস এম তাওফিক তাসিন।
ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে স্বাধীন শাকির, আয়াশ মাহরুস খান ও জাইফ বিন মোর্শেদ। অ্যাডভান্স ক্যাটাগরির বিজয়ীরা হলেন সিফাত কামাল, মো. জিম মিন সিদ্দিক সৌধ ও মোহাম্মদ সাইফ।
অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অর্জনকারীদের নগদ ২০ হাজার টাকা ও সম্মাননা মেডেল দেয়া হয়। পাশাপাশি আয়োজনকে গতিশীল করতে রিজিওনাল ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর ও লোকাল পার্টনারদের সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।
এবার তিনটি আঞ্চলিক পর্ব পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড। এসব পর্বে অংশ নিয়েছেন সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা।










