পৌর এলাকার সাড়ে ১৮ হাজার হোল্ডিংয়ের বিপরীতে বিশুদ্ধ পানির সংযোগ রয়েছে মাত্র ৭ হাজার, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। আবার যেসব পরিবারে সংযোগ রয়েছে, তারাও চাহিদামতো পানি পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও সাত-আট মাস ধরে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। বাধ্য হয়ে বাসিন্দারা অগভীর নলকূপের লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করছেন, যা চর্মরোগসহ নানামুখী স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক ভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও পৌর কর্তৃপক্ষ কেবল নতুন প্রকল্পের আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৭ দশমিক ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় বর্তমানে দৈনিক পানির মোট চাহিদা প্রায় আড়াই কোটি লিটার। তবে বিদ্যমান ৭ হাজার সংযোগের বিপরীতে গড়ে প্রতিদিন চাহিদা রয়েছে দেড় কোটি লিটার। এর বিপরীতে পৌরসভা সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৭০ লাখ লিটার। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় ২০০৪ ও ২০২১ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেগমগঞ্জের একলাশপুর ও সদরের সালেহপুরে ১২টি উৎপাদন পাম্প, দুটি লোহা দূরীকরণ প্লান্ট এবং ছয়টি ওভারহেড ট্যাংক স্থাপন করে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ১২টি পাম্পের মধ্যে পাঁচটিই বিকল। এছাড়া সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন কাজের সময় সরবরাহ পাইপ ফেটে যাওয়ায় প্রায়ই পানির সঙ্গে নর্দমার দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আসার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলপাড়া, মাস্টারপাড়া এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরাফাত কলোনি ও লক্ষ্মীনারায়ণপুরসহ কয়েকটি এলাকা সরজমিনে ঘুরে তীব্র পানি সংকটের চিত্র দেখা গেছে। আরাফাত কলোনির বাসিন্দা জীবন নেছা জানান, প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে সংযোগ নিয়েও ১০ মাস ধরে তিনি পানি পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে মোটরের লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করায় পরিবারের সদস্যরা চর্মরোগে ভুগছেন।
পানির এ সংকটের কথা অকপটে স্বীকারও করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পৌরসভার পানি ও পয়োনিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আফছার বলেন, পর্যাপ্ত ট্রিটমেন্ট প্লান্ট না থাকা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় দিয়ে এত বড় সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তবে শতভাগ বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও বিশুদ্ধকরণের দুটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।










