নোয়াখালীতে ইউপি নির্বাচনে আঙ্গুলের চাপ নিয়ে ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগে মো. সেলিম নামে এক এজেন্টকে বেঁধে রেখেছিল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেসবাহ উদ্দিন। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। একই অভিযোগে সুমি আক্তার নামে অন্য এক নারী পোলিং এজেন্টকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে পৃথক দুই কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মহিলা বুথে গোপন কক্ষে ঢুকে মো. সেলিম ভোটারদের তার পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করছে। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেসবাহ উদ্দিন। পরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ওই পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রের একটি পিলারের সঙ্গে বেশ কিছু সময় ধরে বেঁধে রাখেন। মো. সেলিম নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে তালগাছ প্রতীকে প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট। 

এ দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ডের শীবপুর মুসলিম গালর্স হাই স্কুল কেন্দ্রে সুমি আক্তার নামে আরো একজন পোলিং এজেন্টকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে সাধারণ ভোটারদের বাধ্য করার অপরাধে তাকে এ সাজা দেয়া হয়। এ সময় দায়িত্ব অবহেলার কারণে একই কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. আলী হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। 

জানতে চাইলে সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন বিষয়গুলো নিশ্চিত করে জানান, যেখানে অনিয়ম পেয়েছে সেখানেই শাস্তি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দু-একটি কেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটাররা সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার যাতে প্রয়োগ করতে পারে সে জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।