লালমনিরহাটে মামা শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে এসে সতী নদীর পানিতে ডুবে আনোয়ারুল হক (২৫) ও বৃষ্টি বেগম (১৯) নামে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের জগতবেড় এলাকার সতী নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে ওই দম্পতির মৃত্যু হয়। গত ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত আনোয়ারুল হকের মামা শ্বশুর ফারুক হোসেন, লালমনিরহাট সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের হাবিলদার আব্দুর রহমান ও সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন মোফা।
লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রংপুর কামাল কাছনা এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ারুল হক (২৫) তার মামা শ্বশুর ফারুক হোসেনের বাড়ীর পার্শ্ববর্তী সতী নদীতে গোসল করতে গেলে পানিতে ডুবে যায়। বৃষ্টি বেগম (১৯) তার স্বামীকে বাঁচাতে নদীতে নামলে তিনিও ডুবে যান। পরে অন্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন নদীতে খোঁজাখুজি করে তাদের সন্ধান না পেয়ে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসে মোবাইল করে বিষয়টি জানায় বৃষ্টির মামা ফারুক হোসেন। পরে লালমনিরহাট ফায়ার
সার্ভিস এবং কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে সতী নদী থেকে আনোয়ারুল হক ও তার স্ত্রী বৃষ্টি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
এখন নিহত আনোয়ারুলের বাড়ি রংপুরের কামাল কাছনায় নিয়ে গিয়ে মরদেহ দাফন করার কাজ চলছে।
লালমনিরহাট সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের হাবিলদার আব্দুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের নিকট থেকে খবর পেয়ে আমরা একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এরপর রংপুর অফিসকে অবহিত করে ডুবুরি চাইলে কুড়িগ্রাম সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দুজন ডুবুরি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। পরে যৌথভাবে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপি সতী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন মোফার নিকট মরদেহ দুটি হস্তান্তর কর হয়।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, নহত দম্পতির পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহ দাফনের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।










