টাঙ্গাইলে গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করেন সদর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক কবির হোসেন। সেদিন কার্ড পাওয়ার পর নিজের অনুভূতিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপরই তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক তথ্য প্রচার করা শুরু হয়।
এ ঘটনার তদন্ত শেষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি জানিয়েছে, কবির হোসেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক এবং নীতিমালা অনুযায়ী কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের কবির হোসেনসহ ১৫ কৃষক। তবে অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবির হোসেনের কিছু ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে বিত্তশালী বা প্রকৃত কৃষক নয় বলে উপস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনা নজরে এলে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়েদুর রহমান মন্ডলের নেতৃত্বে ১৫ এপ্রিল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কমিটিকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে এক কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকও এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন ধাপে যাচাই-বাছাই করে যথাযথভাবে কবির হোসেনকে কৃষক নির্ধারণ করা হয়েছে- উভয় কমিটির তদন্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দুটিতে বলা হয়, টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ কৃষি ব্লকের অন্তর্গত উত্তর তারূটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষী- বিষয়টি প্রমাণিত। তার নিজস্ব জমির পরিমাণ ১৩ শতাংশ এবং চলতি বছর তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। সেইসঙ্গে কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই তিনি ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছেন বলে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে।
সরকারের উন্নয়নমূলক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমকে ব্যাহত করার হীন উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালিয়েছে বলে মনে করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।










