কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কৃষি খাতে উৎপাদন নির্বিঘ্ন করার জন্য সরকার সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে কৃষি অবকাঠামো ও ফসল, গবাদিপশু ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশে সবার জন্য খাদ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতায় সময় এ দেশের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষের খাদ্য যে জমিতে উৎপন্ন হতো এখন জমির পরিমাণ কমলেও প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে। দেশ বর্তমানে দানা জাতীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বিশেষ করে ফল, সবজি, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম ইত্যাদির উৎপাদনেও আমাদের সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, দেশে সবার জন্য খাদ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। তবে আমাদের এ প্রত্যাশা সহজেই পরিপূর্ণতা পাবে যদি আমরা বড় উদ্বেগের জায়গা খাদ্যপণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি এবং অপচয় হ্রাস করতে পারি।

আধুনিক ফসল সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সুশৃঙ্খল ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় রোধ করতে উপদেষ্টা সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে একক এবং যৌথভাবে বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেশে কৃষিপণ্য সংগ্রহোত্তর অপচয় ও ক্ষতির পরিমাণ ফসলের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ, বিশেষত শাক-সবজি এবং ফলে অপচয় এবং ক্ষতির হার সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ৪০ শতাংশ। উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের একটা বড় অংশ ভোক্তা পর্যায়ে অপচয় হচ্ছে। দেশে বছরে জনপ্রতি প্রায় ৮২ কেজি খাদ্য অপচয় হয় বলে উপদেষ্টা জানান। উপদেষ্টা খাদ্য অপচয় রোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান এবং এফএও এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (শস্য) ও সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ঢাকার পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য খাদ্যের অধিকার’।