দিনাজপুরের ‘অমৃত সাগর’ (সাগর)
কলার খ্যাতি দেশজুড়ে। দাম তুলনামূলক কম, আকার ও স্বাদের কারণে দিন দিন বাড়ছে অমৃত সাগর কলার চাহিদা। প্রতিদিন ট্রাকে করে এ কলা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এ জাতের কলাসহ আরো উন্নত জাতের কলা চাষ করে জেলায় হাজারো কৃষকের ভাগ্য বদল হয়েছে। তাই দিন দিন কলা চাষের প্রতি ঝুঁকছেন দিনাজপুরের স্থানীয় কৃষকরা।
জেলার সব উপজেলায় কলা চাষ হয়। তবে জেলার কাহারোল, বীরগঞ্জ, সদর, বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় কলার আবাদ হয় বেশি। শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে আশ্বিনের শেষ পর্যন্ত এ কলা বাজারে ওঠে। এ সময় কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকায় বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বড় কলার হাট। ঢাকার বাদামতলী, যাত্রাবাড়ী, তেজগাঁও, ওয়াইজঘাট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ব্যাপারীরা কলা কিনতে আসেন এখানে।
বৈশাখে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফলন পাওয়া যায়। যেসব জমিতে পানি জমে না সেখানে কলা চাষ ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষের জন্য জাতভেদে ২৫০-৩৫০টি কলার চারা রোপণ করা যায়।
জেলার দশমাইল কলার হাটে দেখা যায়, সারি সারি সাজানো কলার কাঁদি। প্রতিটি কলার কাঁদি বিক্রি হয় ২৫০-৩৫০ টাকা। কলার দাম পেয়ে খুশি কৃষকরাও। কাহারোল উপজেলার কলাচাষী সুজন বলেন, কলা চাষে কোনো ঝুঁকি নেই। শুধু খেয়াল রাখতে হয় গাছের গোড়ায় যেন পানি না জমে। কলা বিক্রি করতেও কোনো ঝামেলা হয় না। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে কলা নিয়ে যায়। এছাড়া স্থানীয় বাজারেও আমাদের কলা বিক্রি করা যায়। বাজারে কলার ভালো চাহিদা।
বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউয়িনের কৃষক হামিদুল আলম। এ বছর এক বিঘা জমিতে কলা আবাদ করেছেন। বাগানে মোট খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কলা বিক্রির আশা তার। কলার বাগানে যে খরচ হয়েছে, বাগানের ভেতরে বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ থেকেই সেটা উঠে এসেছে।
হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান জানান, মৌসুমে প্রায় প্রতিদিন ৭০-৮০ লাখ টাকার কলা কেনাবেচা হয় এ হাটে। শতাধিক ব্যাপারী কলা কিনতে আসেন। প্রতিদিন ২৫-৩০টির বেশি ট্রাকে কলা নেয়া হয়। একটি ট্রাকে সর্বনিম্ন ৮০০-৯০০ কাঁদি কলা ধরে। অর্ধশত শ্রমিক শুধু ট্রাকে কলা তোলার কাজ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, এ জেলায় প্রায় চার হাজার হেক্টর কলার আবাদ হচ্ছে। বগুড়ার পরে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলার হাট বসে দিনাজপুরের দশমাইলে। বগুড়ার হাটে চম্পা কলার আধিক্য বেশি। দিনাজপুরে উৎপাদিত সাগর কলা ঘ্রাণে ও স্বাদে অনন্য হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ হাটে আসেন পাইকাররা।
এবার মৌসুমের শুরুতে চাহিদা বেশি থাকায় দামও কিছুটা বেশি ছিল। তিনি বলেন, দিনাজপুর হার্টিকালচার সেন্টার ও প্রদর্শনী খামারে আমের মতো কলাও বিশেষ কার্বন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে বড় করার প্রক্রিয়া চলমান। যদি এটি করা সম্ভব হয়, তাহলে সম্পূর্ণ কীটনাশক ও দূষণমুক্ত কলা উৎপাদন করে দেশের বাইরেও রফতানি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।










