ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাথপুকুরিয়া গ্রামের মাঠে পুকুর সেচা পানিতে কৃষকের ৪০ বিঘা জমির পাকা ধান ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নজরুল নামে এক কৃষক বাদী হয়ে রোববার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গতকাল সকালে ওই গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বাথপুকুরিয়া গ্রামের মাঠে পাকা ধান কাটা চলছে। চারদিকে জমির মাটি শুকনো থাকার কারণে কৃষক মাঠেই ধান শুকিয়ে বিচুলি (গরুর খাবার) করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্ষাকালে মাঠের পানি নিষ্কাশনে যে খাল ব্যবহার করা হয়, সে খাল দিয়েই মাঠে ঢুকছে পানি। ওই পানিতে তলিয়ে গিয়েছে ৪০ বিঘা জমির পাকা ধান ও বীজতলা। কয়েকজন কৃষক পানি সেচে বীজতলা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। কৃষক জানান, এটি বৃষ্টির পানি নয়, পুকুর সেচা পানি। পুকুর সেচা বন্ধ না হলে ওই মাঠের কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাথপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলামের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, তিনিসহ মাঠের কৃষক পাকা ধান কাটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অবস্থায় ডহর-পুকুরিয়া গ্রামের ওমর আলী ভূইয়া, করম আলী ভূইয়া, রেকমত আলী, কেরামত আলী এবং সামসুদ্দিনরা ১৪/১৫ দিন ধরে রাতের আঁধারে পুকুর সেচা পানি পাকা ধান খেতে দিয়ে আসছেন। কৃষকরা বারবার ধানি জমিতে পানি দিতে নিষেধ করলেও কোনো কর্ণপাত করেননি তারা। এরপর তারা জমিতে পানি না ঢোকার জন্য খালের মুখে বাঁধ দেন। তার পরও রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে পাকা ধানখেতে পানি দিয়ে আসছে। পরিকল্পিতভাবে পুকুরের পানি পাকা ধানখেতে দেয়ায় ওই মাঠের কৃষকের ১২ লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পুকুর মালিকরা পেশিশক্তির দাপটে কয়েক বছর ধরেই ধান কাটার মৌসুমে পুকুর সেচে তাদের জমিতে পানি দিয়ে একইভাবে ক্ষতি করে আসছেন।

কৃষক আব্দুল কাদের জানান, বৃষ্টির পানি নয়, ভূইয়াদের পুকুর সেচা পানিতে ধানখেত তলিয়ে গিয়েছে। তাদের অনুরোধ করে বলেছিলাম, চাচা আপনারা পুকুর সেচা কয়টা দিন বন্ধ করেন। পাকা ধানগুলো গুছিয়ে নেই, চারটে বিচুলি হবে। তার পরও তারা কোনো কথা শোনেননি। মাঠে ধান কাটতে এসে দেখি পানিতে ধানখেত তলিয়ে গিয়েছে, ধানবীজও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

একই মাঠের কৃষক আজিজুল, আব্দুল গাজী, সন্তোষ কুমার, আতা মিয়া ও নজরুল ইসলাম জানান, মাঠে যখন নতুন পানি দেখি তখনই বুঝতে পারি পুকুরসেচা পানি মাঠে ঢুকছে। আমরা সবাই মিলে ভূইয়াদের পুকুরের পানি পাকা ধানখেতে দিতে নিষেধ করি। ভেবেছি আর হয়তো পানি দেবে না। কিন্তু সকালে ধান কাটতে এসে দেখি ধানখেতের মধ্যে হাঁটু সমান পানি। তলিয়ে গিয়েছে বীজতলা। এখন ধানগুলো কোনো রকম রক্ষা করতে পারলেও বিচুলি হবে না। আবার শ্রমিক খরচও বেশি লাগবে। এ অবস্থায় ১২/১৩ লাভ টাকার ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন তারা।

অভিযুক্ত পুকুর মালিকরা দাবি করেন, ১০ দিন আগেই তাদের পুকুর সেচা হয়ে গিয়েছে। পুকুরের পানি ঢুকে ধান নষ্ট হচ্ছে, কৃষকর তাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ করেননি। বর্তমানে পাশের পুকুর মালিকরা পুকুর সেচে পানি বাইরে দিচ্ছেন।

ডাকবাংলো পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। কৃষকের পাকা ধান ও বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। পুকুর সেচের পানির কারণেই এমন ক্ষতি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।