চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় প্রায় প্রতি রাতেই চুরি হচ্ছে গরু। সিসি ক্যামেরায় চুরির দৃশ্য বন্দি হওয়ার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে চোরের দল। পাহারা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না গরু চুরি। অথচ মিরসরাই উপজেলায় রয়েছে দুটি থানা ও দুটি পুলিশ ফাঁড়ি। গত ১৫ দিনে প্রায় ২৫টি গরু চুরি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর জোরারগঞ্জ থানাধীন মেহেদীনগর গ্রাম থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। চুরি হওয়ার দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় বন্দি হলেও ধরা পড়েনি চোর। দীর্ঘদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরু চুরি হলেও চোর শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বরং চুরি রোধে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে মিরসরাই থানাধীন খইয়াছড়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া মুন্সিবাড়ী থেকে গোয়ালঘরের তালা কেটে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। ২২ ডিসেম্বর একই ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের আজিম মেম্বার বাড়ি থেকে মাহমুদুল হকের দুটি ও সমকাল পত্রিকার মিরসরাই প্রতিনিধি বিপুল দাশের দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৩ ডিসেম্বর মিরসরাই থানায় গরুর মালিক বিপুল দাশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ২৪ ডিসেম্বর রাতে একই ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার রহিম উল্যার তিনটি গরু চুরি হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে জোরারগঞ্জ থানা এলাকা থেকে দুটি গরু চুরি হয়। একই দিন মেহেদীনগর গ্রামের মহিউদ্দিনের বাড়ি থেকে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। এভাবে নিয়মিত গরু চুরি হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জোরারগঞ্জ থানাধীন মেহেদীনগর গ্রামের মহিউদ্দিন বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। চুরির দৃশ্য সিসি ক্যামরায় ধরা পড়ে। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তিনটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। এভাবে গরু চুরি হতে থাকলে গ্রামের গরিব কৃষক পরিবারগুলো গরু লালন-পালন বন্ধ করে দেবে।
মিরসরাই থানার অফিচার ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, গরু চুরি রোধে রাতের বেলা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। চোর শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।










