ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। নির্মাণাধীন চার লেন সড়কটি ৫১ কিলোমিটার। এর মধ্যে আশুগঞ্জ থেকে ধরখার পর্যন্ত সড়কের বেশির ভাগ অংশে দুই লেনের কাজ শেষ হয়েছে। যেসব অংশের কাজ শেষ হয়নি, সেখানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগে সড়কের এক পাশের দুই লেনের ২৭ কিলোমিটার অংশ যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেয়া হবে। কিছু অংশ এরই মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে। ২৭ কিলোমিটার খুলে দিলেও এর মধ্যে দুই-তিন কিলোমিটার অংশে যাত্রীদের কিছু ভোগান্তি হবে। তবে তা কমাতেও পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সরজমিনে দেখা গেছে, বেতবাড়িয়া, সুহিলপুর, ঘাটুরা থেকে কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, পঞ্চবটি, আহরন্দ, মহিউদ্দিন নগর এলাকায় পুরনো সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উজানিসার থেকে আহরন্দ পর্যন্ত। এছাড়া ওই সড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দের পাশাপাশি ধুলার জন্য চালক ও যাত্রীরা অতিষ্ঠ। কুয়াশার মতো ধুলার কারণে রাস্তায় কিছুই দেখা যায় না।
সদর উপজেলার সুহিলপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘উন্নয়নকাজ হবে ভালো কথা, তবে এত দীর্ঘ সময় ধরে কেন। আমরা ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। এ থেকে পরিত্রাণ চাই।’
শিক্ষক রত্না বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন জেলা শহর থেকে নন্দনপুর যেতে হয়। রাস্তার কাজের জন্য প্রায় সময় ঘাটুরা ও সুহিলপুরে যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক সময় আমরা সময়মতো স্কুলেও যেতে পারি না। যানজটের সঙ্গে ধুলাবালিতে আমরা অতিষ্ঠ।’
সিএনজি অটোরিকশা চালক রাজীব মিয়া বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে কয়েক বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছি। যেমন সড়ক খারাপ, তেমনি ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনিভাবে সড়কের আশপাশের মানুষেরও ভোগান্তির শেষ নেই। কিছু জায়গায় ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে।’
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সড়কটি এখন প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আওতায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন।’
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। সে সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। পরবর্তী এক বছরের জন্য প্রথম ধাপে মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর আবার প্রকল্পের ডিপিএম সংশোধিত হয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আরেক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এজন্য ব্যয় বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চার লেন সড়কের উপপ্রকল্প পরিচালক শামীম আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যে সমস্ত জায়গা পাকা করে দেয়া হয়েছে, সেসব স্থানে ধুলা নেই। যে সমস্ত জায়গা এখনো পাকা হয়নি, সেসব স্থানে নিয়মিত পানি দিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। রামরাইলে পুরনো সড়কে যেখানে বেশি ভাঙা, সেটির এক পাশে নতুন সড়কের একটি অংশের কাজ শেষ হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে সেটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তবে আহরন্দ এলাকায় ১-২ কিলোমিটার অংশ খারাপ অবস্থায় আছে সেটিতে ভোগান্তি হবে।’










