গতকাল সকালে নগরীর ব্যাংকপাড়া খ্যাত আগ্রাবাদে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করেন তারা। সর্বশেষ দুপুরে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কার্যালয়ে তালা দিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন বিক্ষোভকারীরা।

ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি। রোববারও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এসব ব্যাংকের শাখায় শাখায় গিয়ে বিক্ষোভ ও শাখাগুলোর মূল ফটকে তালা দিয়েছিলেন শতাধিক বিক্ষুব্ধ আমানতকারী।

বিক্ষোভকারীদের দাবি—এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকারও বেশি জমা রয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয়করণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে দেয়া তারল্য থেকে গ্রাহকপ্রতি ২ লাখ টাকা করে ফেরত দেয়া হয়েছে। এপ্রিলে গ্রাহকপ্রতি আরো ১ লাখ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও তারল্য সংকটে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের গ্রাহকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে এ কর্মসূচি পালন করছে এ বিষয়ে গঠিত আমানতকারীদের একটি অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীরা।

সংগঠনটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সামনে কোরবানির ঈদ, কিন্তু টাকা না পেলে কোরবানিও করতে পারবে না অনেক পরিবার। ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা আমানতকারীদের বিষয়টি সমাধান না করে ব্যাংকের শাখা পরিচালনার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বেতন ভাতা নিচ্ছেন।’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া না হলে গ্রাহকরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যাংকে তালা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘আন্দোলনকারী আমানতকারীরা ব্যাংকের কোনো ক্ষতি করেনি। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করেছে।’