হেপাটাইটিস
বি রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন নকল করায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুধু হেপাবিগ
ভ্যাকসিন নয় ভিটামিন ডি৩ অ্যাম্পুল ইনজেকশন, রেসোগাম পি, ক্লোপিকজল ডিপোর্ট, ফ্লুয়ানজল
ডিপোর্টসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী নকল অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরি করত তারা। আর এসব ওষুধ
ব্যবহারে সাধারণ মানুষের জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার
(গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ। সোমবার (৮ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে
এ তথ্য জানান তিনি।
ডিবি প্রধান
বলেন, হেপাবিগ ভ্যাকসিন নামের ইনজেকশনটি ব্যবহৃত হতো হেপাটাইটিস বি রোগ প্রতিরোধে।
দেশের বাজারে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা দামের কোরিয়ান এই ভ্যাকসিনটি কেরানীগঞ্জে তৈরি
করত একটি চক্র। গর্ভবতী মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ওষুধটি মাত্র ১০ টাকার টিটেনাস
দিয়ে নকল সিল বসিয়ে বাজারে বিক্রি করত তারা। রাজধানীর কোতোয়ালী ও কেরানীগঞ্জে অভিযান
চালিয়ে নকল ভ্যাকসিন ও ওষুধ তৈরির অভিযোগে চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের
হেফাজত থেকে কয়েক লাখ নকল ওষুধ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি টাকারও বেশি উদ্ধার
করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, অসিম ঘোষ, মশিউর রহমান ওরফে মিঠু ও নূরনবী।
তিনি বলেন,
সাম্প্রতিক সময়ে ডিবি পুলিশের অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের নকল ওষুধসহ একটি
বড় চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের কাছে খবর আসে, তাদেরই
সহযোগী মিটফোর্ড থেকে ওষুধের কাঁচামাল সংগ্রহ করে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ইনজেকশন তৈরি
করে বাজার করে আসছিল। এসব নকল ওষুধের কার্যকারিতা না থাকায় সাধারণ মানুষ কোনো সেবা
পেত না। বরং নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতো। তারা এমনভাবে এসব ওষুধ হুবহু প্যাকেজ করত,
সাধারণ মানুষের চেনার উপায় নেই কোনটা আসল আর কোনটা নকল। যেসব ওষুধ নকল করা হতো সেগুলো
হলো হেপাবিগ, ভিটামিন ডি৩ অ্যাম্পুল ইনজেকশন, রোসোগামা পি, ফুয়ানজল ডিপোর্ট, ক্লুপিক্সল
ডিপোর্ট, এবং ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন। আর এসব ওষুধ রাজধানীর মিটফোর্ড মেডিকেলের পাশের ওষুধের
বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো।










