আইনে বলা থাকলেও এর আগে কখনই রাজস্ব আদায় হয়নি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ও মোবাইল টাওয়ার থেকে। গত অর্থবছরই প্রথম রাজস্ব আদায় হয়েছে এ দুটি খাত থেকে। এ দুটি এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়ের নতুন উৎস। এছাড়া চলতি অর্থবছর আরো তিনটি নতুন খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবমিলে ডিএসসিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৩১ কোটির টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।

২০২০-২১ অর্থবছরে টোল খাতে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ডিএসসিসি। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে বছর শেষে ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে। চলতি অর্থবছর ফ্লাইওভার নামে আলাদা খাত থেকেই ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

একইভাবে মোবাইল টাওয়ার ব্যবহার বাবদ মুঠোফোন কোম্পানি ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির এক-ষষ্ঠাংশ অর্থ আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন প্রাপ্য। কিন্তু এ খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলালিক ছাড়া আর কেউ ডিএসসিসিকে রাজস্ব দেয়নি। গত অর্থবছরই প্রথমবারের মতো রবি ও গ্রামীণফোন রাজস্ব দিয়েছে। গত অর্থবছরে মুঠোফোন কোম্পানিগুলো থেকে মোট ১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে খাতটি থেকে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ডিএসসিসি।

এছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে নতুন আরো তিনটি খাত থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করবে ডিএসসিসি। খাত তিনটি হলো জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং খাদ্যদ্রব্য নমুনা পরীক্ষাগার। সব মিলিয়ে মোট ৫৩টি খাত থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ডিএসসিসির রাজস্ব ধরা হয় ৬ হাজার ৭৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের বাজেটে ডিএসসিসির রাজস্ব আয় ছিল ৬ হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

কভিডকালেও ডিএসসিসির রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যণীয়ভাবে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। শুধু হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ গত অর্থবছর আয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগের অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছর ওই খাতে আয় ছিল ১৮২ কোটি টাকা।

ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ডিএসসিসির আয় করার লক্ষ্য ছিল ৭২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর আগের বছর একই খাতে আয় ছিল ৫৫ কোটি টাকা। কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট থেকে দ্বিগুণের বেশি আয় করে ডিএসসিসি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বাবদ ৮ কোটি ১ লাখ টাকা আয় হয়। গত অর্থবছর ওই খাত থেকে আয় হয় ১৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রায় তিনগুণ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে টয়লেট, পার্কিং, কাঁচাবাজার ইত্যাদির ইজারা থেকে। গত অর্থবছরে ইজারা বাবদ সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে খাতটি থেকে আয় হয়েছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। 

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, মেয়র মহোদয়ের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল কর বাড়ানো হবে না। তাই তিনি কর না বাড়িয়ে কর আদায় বাড়িয়েছেন এবং ফাঁকি কমিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।