নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপা এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর বায়েজিদ আকন্দ (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি ইট ভাটার পাশ থেকে আসামি ফেরদৌস আলীর দেখানো জায়গা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম।

পুলিশের ধারণা, পূর্ব শত্রুতা বা টাকা-পয়সার লেনদেন জেরে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে শিশুটিকে হত্যা আসামি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

নিহত বায়েজিদের বাবা সাইফুল ইসলাম আপন জানান, সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিশু বায়েজিদ নিখোঁজ হয়। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশু বায়েজিদের সন্ধান না পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়ির পাশের অপর ভাড়াটিয়া ফেরদৌস আলীর কথাবার্তায় কিছুটা সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় । জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ফেরদৌস স্বীকার করেন, তিনি শিশুটিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ রেললাইন সংলগ্ন ইট ভাটার পাশে একটি নির্জন স্থানে ফেলে দেন। পরে তার দেখানো পথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শিশু বায়েজিদের মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি জানান, শিশু বায়জিদের পরিবার এবং আসামি ফেরদৌসের পরিবার পাশাপাশি বাড়িতে ভাড়া থাকার কারণে তাদের মধ্যে একটি সখ্যতা গড়ে ওঠে। আসামি ফেরদৌস আলী বিভিন্ন সময় শিশু বায়েজিদকে আদর করতো।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা আর্থিক লেনদেন অথবা পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিশোধ নিতেই ফেরদৌস আলী শিশুটাকে হত্যা করেছে। নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।