কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে নীলকমল নদী সাঁতরে বাংলাদেশে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ধাওয়ায় পানিতে ডুবে নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে বিএসএফ।

গতকাল দুপুরে সীমান্তের ভারতীয় অংশে নীলকমল নদী থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ১৯২ ব্যাটালিয়নের সেউটি-১ ক্যাম্পের বিএসএফ ও সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ।

ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ধর্মপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে নীলকমল নদীতে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। এ খবরে দুই দেশের সীমান্তের স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করে। পরে ভারতীয় সেউটি-১ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ও সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নিহত দুই শিশু পারভীন (৮) ও সাকিবুর (৬) কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম সুখাতি গ্রামের রহিজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী সামিনা বেগম দম্পতির সন্তান।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৬ বছর আগে রহিজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী সামিনা খাতুন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সুলতানপুরে ইটভাটায় কাজ করতে যান। সেখানেই তাদের দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে। বাবা-মা বাংলাদেশী হলেও শিশুদের জন্ম ভারতে হওয়ায় তাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্বের কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় বিজিবির কাছে শিশুদের মরদেহ হস্তান্তর না করে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ।

নিহত শিশুর চাচা আজিজুল হক জানান, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সুলতানপুর এলাকার হাসিহেসা ইটভাটায় কাজ শেষে দুই দেশের দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য শুক্রবার  রাতে স্ত্রী ও দুই সস্তানসহ কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার শেউটি-১ সীমান্তে এলাকায় আসেন রহিজ উদ্দিন। গভীর রাতে আন্তর্জাতিক পিলার ৯৪৩ এর পাশে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর সীমান্ত এলাকার নদী পাড়ে নিয়ে আসা হয় তাদের।

তিনি আরো জানান, এ সময় লোকজনের কথার শব্দ শুনে ভারতীয় শেউটি-১ ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে তাদের ধাওয়া করে। অবস্থা বেগতিক দেখে দুই সন্তানকে নিয়ে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন সামিনা বেগম। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে হাত ফসকে নদীতে ডুবে যায় দুই শিশু। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর গতকাল তাদের মরদেহ ভেসে উঠে।

নিহত শিশুর বাবা রহিজ উদ্দিন (৫০) জানান, পরিবার নিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য ভারতীয় দালালরা ২২ হাজার রুপী ও দেশের দালালরা ভারতীয় ৪০ হাজার রুপী নিয়েছে। এর পরও তারা নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেয়নি। তিনি তার দুই সন্তানের মরদেহ দেশে আনার জন্য দুই দেশের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে লালমনিহাটের ১৫ বিজিবি কাশিপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কবির হোসেন শিশু দুটির মরদেহ বিএসএফ উদ্ধার করেছে বলে নিশ্চিত করে জানান। এ নিয়ে দুই দেশের কোম্পানি পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।