রমজানে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ময়মনসিংহের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোয় ভিড় বাড়লেও লোডশেডিংয়ের কারণে অসন্তুষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।?দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুতের আসা-যাওয়া হলেও সাহরি ও ইফতারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না নগরবাসীসহ গ্রামের মানুষ।
বিদ্যুতের এ অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে উৎপাদন ঘাটতিকে দায়ী করছেন ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
গাঙিনারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী হাসানুল আবেদীন জানান, ঘন ঘন লোডশেডিং আমাদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত গরমে আমাদের কষ্ট বেড়ে যায়। ক্রেতারাও অসন্তুষ্ট হন। আমরাও বারবার জেনারেটর চালু করতে গিয়ে ক্লান্ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুমে লোডশেডিং না থাকলেও গরম আসতে না আসতেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে। রমজানে প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে বেড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও কৃষকের সেচ কার্যক্রম। লোডশেডিং কেবল ময়মনসিংহ নয় ,বিভাগের চার জেলাতেই এ চিত্র । তবে ময়মনসিংহ জেলায় উৎপাদন ব্যবস্থায় ভাটা পড়ায় এ জেলায় ঘাটতি এবং লোডশেডিং বেড়েছে বলে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জানা যায়, নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, বড় বাজার, ছোট বাজার, মেছুয়া বাজার ও চরপাড়া এলাকায় রয়েছে হাজারো ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব এলাকায় প্রতিদিনই লোডশেডিং চলছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নগরীর চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওসমান গণি জানান, গরম শুরু হতে না হতেই এ অবস্থা। সামনের দিনগুলো কি হবে বলতে পারছি না। রমজানে সাহরীর সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেশি কষ্টকর।
শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা নয় ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার সবগুলোর অবস্থাই একই রকম। বিশেষ করে গৌরীপুর ও শিল্পাঞ্চলখ্যাত ভালুকা ও ত্রিশালে বিদ্যুতের বিড়ম্বনা আরো বেশি। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ কোনোটাই লোডশেডিংমুক্ত নয়।
গৌরীপুরের মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় আমরা কষ্টের মধ্যে আছি। রোজা রেখে গরমে কষ্ট আরো বেড়ে যায়। এর মধ্যে যদি বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে কী অবস্থা বুঝতেই পারছেন।
ময়মনসিংহ নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, এই ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। দিনে অন্তত ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। সাহরি, ইফতার ও তারাবির সময়ও বিদ্যুৎ চলে যায়।
নয়াপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়াল জানান লোডশেডিং, লো-ভোল্টেজ আর তার ছিঁড়ে পড়া—এসব সমস্যার কারণে আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি চরম অসন্তুষ্ট। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।
ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) থেকে দৈনিক ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা রয়েছে। কিন্তু গ্যাসস্বল্পতার কারণে কিছুদিন আগে ১০০ মেগাওয়াট দিতে পারলেও বর্তমানে মাত্র ৬-১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করে দিতে পারছে। এছাড়া জামালপুর জেলার বেসরকারি মালিকানাধীন সিকদার গ্রুপের ৯৫ মেগাওয়াটের একটি পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ রয়েছে। ফলে সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। মূলত এ কারণে ময়মনসিংহে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি, যেন ময়মনসিংহের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়।
তিনি আরো জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহে প্রায় ১ হাজাা ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং থাকছেই। আমরা রমজান মাসে সাহরি, ইফতার ও তারাবি নামাজের সময় লোডশেডিংমুক্ত রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখছি।










