রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় শুরু হয়েছে সুপার ফুড বলে পরিচিত ওষুধি বৃক্ষ চিয়াবীজের আবাদ। ব্যক্তি পর্যায়ে আবাদ শুরু হলেও সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে সুদূর আমেরিকার চিয়ার আবাদে প্রথম থেকে সাধ্যমতো পরামর্শ প্রদান করছে উপজেলা কৃষি অফিস। আশপাশের অনেক কৃষক চিয়ার আবাদ দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আশানুরূপ ফলন পেলে আগামীতে অনেক জমি চিয়াবীজ আবাদের আওতায় আসবে।
মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের ভক্তিপুর গ্রামের ঘোনাপাড়ার কৃষক মো. ইদ্রিস আলী (৪০)। এলাকায় কৃষিকাজের পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় কেজি চিয়াবীজ সংগ্রহ করে ১৫ ডিসেম্বর জমিতে বপন করা হয়। মোট জমি দেড় একর হলেও মূলত তিনটি পৃথক পৃথক জমিতে চিয়ার আবাদ করেছেন। বীজগুলো সরিষার বীজের চেয়েও ছোট, তাই বালির সঙ্গে মিশ্রিত করে জমিতে ছিটিয়েছিলেন। কৃষি বিভাগের সঙ্গে আলাপ করে তিনি জেনেছেন, বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এবং সাড়ে তিন মাস থেকে চার মাসের মধ্যে বীজ সংগ্রহ করে তা খাবার জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, গাছের শাখা-প্রশাখা দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পর পর গাছ রোপণ করা ভালো। বর্তমানে গুল্ম জাতীয় গাছগুলোর গড় উচ্চতা হয়েছে ৩ ফিট থেকে সাড়ে ৩ ফিট। গাছের পাতাগুলো অনেকটা পাট পাতার মতো। আগায় ধানের শীষের মতো এবং প্রতিটিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হালকা নীল ও সাদা বর্ণের ফুল ধরেছে। আশা করছেন আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে গাছগুলো থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে আগাছা পরিষ্কার করলেও পরের দিকে তেমন পরিচর্যার দরকার হয় না। খুব বেশি সেচও লাগে না। তার একটি জমির আবাদে পোকার আক্রমণ হওয়ায় স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জমিতে ওষুধ দিয়েছেন। এক একর জমিতে ১৫ থেকে ২০ মণ বীজ আশা করছেন তিনি। এ পর্যন্ত চিয়া আবাদে খরচ হয়েছে লিজের ৩৪ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, চিয়াবীজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।
মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. লোকমান হেকিম বলেন, চিয়াবীজ হচ্ছে ঔষধি ও একাধিক পুষ্টিগুণসংবলিত খাবার। দেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রায় চার মাস মেয়াদি আবাদে খুব বেশি সেচ লাগে না এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম। মিঠাপুকুর উপজেলায় এর আবাদ হওয়ায় কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র আবাদ শুরু হওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সর্বাত্মকভাবে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছেন।
রংপুরে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের প্রধান ডা. মো. মোরশেদ আলী বলেন, চিয়াবীজ হচ্ছে বহু পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি পাওয়ারফুল সুপারফুড।










