বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বরিশালে পুলিশের দায়ের করা ১১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে সাক্ষী ও প্রমাণ না পাওয়ায় নগর পুলিশের সাতটি এবং জেলা পুলিশের চারটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলার আরো কোনো কার্যকারিতা থাকছে না।
তাছাড়া এসব মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছিলেন তারাও এরই মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল বরিশাল নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, ১৭ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মহানগর পুলিশ সাতটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ৫০০ জনকে। এছাড়া জেলার মুলাদী থানা, হিজলা, বাকেরগঞ্জ ও বানারীপাড়া থানায় একটি করে মামলা করে জেলা পুলিশ। চার উপজেলায় করা চারটি মামলায় আসামি করা হয় ২০০ জনকে। এ সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হয় অন্তত ৬৫ জনকে। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে জামিনে মুক্তি পান তারা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোতোয়ালি মডেল থানায় চারটি মামলা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলা তদন্ত করে জানতে পেরেছেন অভিযোগ সঠিক নয়। তাই মামলাগুলোর বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘আসলে কোনো চাপের মুখে নয় বরং সাক্ষ্য, প্রমাণ ও তথ্যাদি না পাওয়ায় জেলা পর্যায়ের চার থানার চারটি মামলায়ই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। হামলার প্রস্তুতি ও হামলাচেষ্টার মতো অভিযোগে মামলাগুলো হয়েছিল। এ মামলাগুলোয় আসামি ছিলেন ১৮০-২০০ জন। তবে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে পুলিশ।’
বরিশাল নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ‘বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো দায়ের হয়। পরে আমরা তদন্তে গিয়ে সত্যতা না পাওয়ায় মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। সবার সঙ্গে বসে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বরিশালের শান্তি-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।’










