উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে দলটি। এতে বিরোধী দলের দায়িত্ব, ভূমিকা, কাজ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশের আল ফালাহ মিলনায়তনে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার নাম দেয়া হয় ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’। মূলত প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদে যাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন সে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে আমলা, একাডেমিশিয়ান, সাবেক সংসদ সদস্য, গবেষক ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। পাঁচটি আলাদা সেশনে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যের কাজ কী, বিরোধী দলের কার্যক্রম কী হবে, বিরোধী দলের ভূমিকা কী, কাজ কী, কোন কোন ক্ষেত্রে বিরোধী দল দক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে এসব বিষয়ে জানানো হয়েছে। এছাড়া সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরোধী দলের ভূমিকা, দায়িত্ব ও আচরণবিধির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটিগুলোর কাজ ও সংসদীয় প্রটোকল সম্পর্কে তাদের ধারণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে সেখানে উচ্চকক্ষ বা সিনেটের সঙ্গে নিম্নকক্ষের সম্পর্ক বিষয়েও ধারণা দেয়া হয়েছে। কর্মশালায় নতুন সংসদ সদস্যরা প্রশিক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং এসব প্রশ্নের উত্তর দেন প্রশিক্ষকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এবারের সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে জামায়াত। আমরা এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ নির্বাচিত করেছি। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এবারের নির্বাচনে বেশির ভাগ সদস্য নতুন হওয়ায় অনেক কিছু তাদের নলেজে নেই। সে জন্য আমরা যারা আগে সংসদে গেছি তাদের থেকে পরামর্শ নিতেই এ কর্মশালা। আমরা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা সংসদ সদস্যদের কাজের পরিধি, ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি ছিল মূলত আমাদের অভ্যন্তরীণ ওরিয়েন্টেশন।’

এ কর্মশালা চলমান প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া ও ঢাকা-১৪ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ৮০ শতাংশ সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছে। তারা যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সে জন্য আগে দু-তিনবার সংসদে যাওয়া সদস্যদের থেকে পরামর্শ নিতেই এ কর্মশালা। এখানে সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা ছিলেন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুইদিনের কর্মশালার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। পাঠচক্রের মতো করে এখানে বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হাতেকলমে শেখার ব্যবস্থা ছিল। সামনে বাজেট নিয়ে একটি হবে। এভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মশালা করবে জামায়াত।’

এদিকে ২০২৬-২৮ কার্যকালের জন্য দায়িত্বশীল নির্বাচন করেছে জামায়াতে ইসলামী। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল এক সভায় কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নির্বাচিত করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তাদের শপথ পড়ানো হয়েছে। দলটির নতুন নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নতুন করে আবারো দায়িত্ব পেয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে সাতজন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে ২১ জন নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে, এর মধ্যে নারী সদস্য ২১ জন। ১৭ জন নারী সদস্যসহ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হয়েছেন ৫৯ জন। সারা দেশে ১৪টি অঞ্চলে পরিচালক মনোনীত করা হয় ১৪ জনকে। এছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।