দেশে উচ্চমূল্যের নোটের চাহিদা বেড়েই চলছে। অন্য যেকোনো নোটের চেয়ে ব্যাংকে এখন ১ হাজার টাকার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে হাজার টাকার নোট ছাপিয়ে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, উচ্চমূল্যের এ নোটের সহজলভ্যতা উসকে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। দাপট বাড়াচ্ছে অর্থ পাচার, হুন্ডি তৎপরতা, ঘুস লেনদেনের মতো শ্যাডো ইকোনমি বা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির। দেশে কালো টাকার দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও হাজার টাকার নোট ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তারা।
দেশে গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যুকৃত নোট ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকার। ১০ থেকে ১ হাজার টাকার নোট আকারে এ অর্থ বাজারে প্রচলিত রয়েছে। উচ্চমূল্যের নোট বলতে মূলত ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোটকেই বোঝানো হয়। দেশে প্রচলিত এ উচ্চমূল্যের নোটের বেশির ভাগই এখন ব্যাংকের বাইরে।
বাংলাদেশে হাজার টাকার নোটের ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়। ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দেশে ১ হাজার টাকার নোট ইস্যু করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাজারে প্রচলিত নোটের মধ্যে ১ হাজার টাকার নোটের পরিমাণ বেশ দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ২০১১ সালেও দেশে মোট ইস্যুকৃত নোটের ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল হাজার টাকার নোট। যদিও এখন তা অর্ধেকেরও বেশি।
বাজারে থাকা নগদ অর্থের ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা আছে ১ হাজার টাকার নোটে, যা দেশের মোট ইস্যুকৃত নোটের ৫২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর মোট অর্থের আরো ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রচলিত রয়েছে ৫০০ টাকার নোট আকারে। সে হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ইস্যুকৃত অর্থের ৯১ শতাংশেরও বেশি উচ্চমূল্যের নোট আকারে প্রচলিত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট অংকের নোটের তুলনায় উচ্চমূল্যের নোট বেশি ছাপিয়েছে। শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১ হাজার টাকার নোট ছাপিয়েছে ১৯ কোটি ৩৯ লাখেরও বেশি। বাজারে ১ হাজার টাকার নোটের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। যদিও একই সময়ে ৫০০ টাকার নোটের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বহুল ব্যবহৃত ১০০ টাকার নোটের প্রবৃদ্ধিও ছিল ৮ শতাংশের ঘরে।
অর্থনীতিতে কালো টাকার দৌরাত্ম্য কমানোর কথা বলে ২০১৬ সালের নভেম্বরে আকস্মিকভাবেই ৫০০ ও ১ হাজার রুপির নোট বাতিল ঘোষণা করেছিল নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকার। উচ্চমূল্যের এসব নোট বাতিলের সময় বলা হয়েছিল, ভারতে ‘শ্যাডো ইকোনমি বা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির দাপট কমাতে ‘নোট বন্দি’ করা হয়েছে।
যদিও পরে ২ হাজার রুপিরও নোট ছাপিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাজার থেকে উচ্চমূল্যের এ নোটটিকেও প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। এ নিয়ে শুক্রবার জারি করা আরবিআইয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার রুপির নোট বদলে নেয়ার বা জমা দেয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতের নীতিনির্ধারণী যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্যমতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে উচ্চমূল্যের নোটধারীদের মধ্যে নোটগুলো দ্রুত ছেড়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে আন্তঃসীমান্ত অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার ঝুঁকিও।
দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও উচ্চমূল্যের নোট সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখার প্রবণতা বাড়ছে। আবার ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও কালো টাকা হিসেবে সিন্দুকে চলে যাচ্ছে। হুন্ডিসহ অবৈধ অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রেও ১ হাজার টাকার নোটই বেশি ব্যবহার হচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বেশি বেশি উচ্চমূল্যের নোট ইস্যু করছে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ছায়া অর্থনীতি (শ্যাডো ইকোনমি) মূল অর্থনীতির চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উচ্চমূল্যস্ফীতি, ঘুস-দুর্নীতি আর কালো টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলে উচ্চমূল্যের নোটের চাহিদাও বাড়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম এখন অস্বাভাবিক। পাঁচ বছর আগেও ১০০ টাকায় যে পণ্য বা সেবা পাওয়া যেত, সেটি নিতে এখন ৫০০ টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। এ কারণে উচ্চমূল্যের নোটের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। কিন্তু যে হারে বাংলাদেশ ব্যাংক হাজার টাকার নোট ছাপাচ্ছে, সেটিও বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না।’
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারের মধ্যে ২ হাজার টাকার নোট ছাপানোর বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি করা একেবারেই ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশে ১০০ ডলারের চেয়ে বড় কোনো নোট নেই। উচ্চমূল্যের নোটের সহজলভ্যতা মূল্যস্ফীতিকে আরো বেশি উসকে দেয়। আর ঘুস-দুর্নীতি থেকে শুরু করে কালোবাজারিরা উচ্চমূল্যের নোটই বেশি ব্যবহার করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হবে ১ হাজার টাকার ছাপানো নোটগুলো বাজারে আবর্তিত হচ্ছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা। আর যত দ্রুত সম্ভব দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনকে ডিজিটালে রূপ দেয়া।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২২ সালের জুন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যুকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩১৮ কোটি টাকাই ছিল ১ হাজার টাকার নোট হিসেবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ইস্যুকৃত অর্থের ৫২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। একই সময়ে ৫০০ টাকার নোট হিসেবে বাজারে প্রচলিত ছিল ৯৮ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। মোট ইস্যুকৃত অর্থের ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ হলো ৫০০ টাকার নোট। যদিও মাত্র পাঁচ বছর আগে ২০১৮ সালের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যুকৃত ১ হাজার টাকার নোটের মূল্যমান ছিল ৭৯ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। ওই সময় ৬১ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ছিল ৫০০ টাকার নোট।
অর্থনীতির চাহিদার নিরিখে মুদ্রা ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার। বাংলাদেশে সরকারি মুদ্রা হলো ১, ২ ও ৫ টাকার নোট এবং কয়েন। সরকারের ইস্যুকৃত এ ধরনের মুদ্রা রয়েছে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার। তবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে সরকারি মুদ্রা এরই মধ্যে বাজারে উপযোগিতা হারিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ও গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত নোট ‘ব্যাংক নোট’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক নোট হলো ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ এবং ১ হাজার টাকার কাগুজে মুদ্রা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের জুন পর্যন্ত ইস্যুকৃত অর্থের মধ্যে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা হলো ১০ টাকার নোট। এটি মোট ইস্যুকৃত অর্থের শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর ২০ টাকার নোট রয়েছে ১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকার, যা ইস্যুকৃত অর্থের শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। ৫০ টাকার নোট রয়েছে ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকার। ১০০ ও ২০০ টাকার ইস্যুকৃত নোট রয়েছে যথাক্রমে ১২ হাজার ৭১২ কোটি ও ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ২০০ টাকার নোট হলো মোট ইস্যুকৃত কাগুজে মুদ্রার মাত্র ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাকি ৯১ দশমিক ৫৯ শতাংশ ইস্যুকৃত নোটই ৫০০ ও ১ হাজার টাকার।
বাংলাদেশের মতো একটি অর্থনীতির দেশে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকার নগদ অর্থ যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ১০-১২ শতাংশ নগদ হিসেবে বাজারে থাকাই যথোপযুক্ত। কিন্তু গত এক দশকে বাজারে নগদ অর্থের পরিমাণ ও হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি। বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় ১৮ শতাংশ বাজারে নগদ অর্থ হিসেবে রয়েছে।
ব্যাংকে এখন উচ্চমূল্যের নোটের চাহিদা অনেক বেশি বলে জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘উচ্চমূল্যের নোট সংরক্ষণ ও পরিবহন করা সহজ। এ কারণে বেশি অর্থ তুলতে এসে গ্রাহক ১ হাজার টাকার নোট চাইছে। হাজার টাকার নোট সংরক্ষণ করতে জায়গা কম লাগে। মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখার জন্য উচ্চমূল্যের নোটই বেশি ব্যবহার করছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় ইস্যুকৃত নোটের মধ্যে উচ্চমূল্যের কত শতাংশ, সেটি আমার জানা নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি পর্যালোচনা করে দেখতে পারে। বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের মোট তারল্যের তুলনায় নগদ অর্থ বেশি। উচ্চমূল্যের নোট এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে।’
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে কেন্দ্র করে অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা এখন জমজমাট। প্রবাসীদের একটি অংশও সহজলভ্যতা ও ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা প্রাপ্তির আশায় রেমিট্যান্স প্রেরণে হুন্ডিকে বেছে নিচ্ছেন। আবার দেশ থেকে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রেও হুন্ডি কারবারিরা ভূমিকা রাখছেন। দেশব্যাপী পরিচালিত হুন্ডির অর্থ লেনদেনে প্রয়োজন হচ্ছে বিপুল অংকের নগদ টাকার। এক্ষেত্রে ১ হাজার টাকার নোটই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে ঘুসের লেনদেন এখন দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়েছে। বড় অংকের ঘুসের লেনদেনও হচ্ছে ১ হাজার টাকার নোটে। তবে ঘুসের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হলে সেটি এখন ডলারসহ উচ্চমূল্যের বিদেশী মুদ্রায় লেনদেন হয় বলে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের কাছে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। ডলার কেনার ক্ষেত্রেও হাজার টাকার নোটই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ী, অসৎ কর্মচারী ও চোরাকারবারিরাও ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে আগ্রহী নয়। অবৈধ অর্থ তারা জমা রাখছে ঘরের সিন্দুকে। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ ১ হাজার টাকার নোট। নগদ অর্থ ঘরে রাখতে উচ্চমূল্যের নোটের সহজলভ্যতা বড় ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কোনো দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধির পথে হাঁটলে সে দেশে উচ্চমূল্যের নোটের চাহিদাও বাড়ে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু করছে। নোট ইস্যুর ক্ষেত্রে দেশের মূল্যস্ফীতির হারও বিবেচনা করা হয়। উচ্চমূল্যের নোট বেশি হওয়ায় মানুষ অপেক্ষাকৃত সহজ ও নিরাপদে লেনদেন করতে পারছে।’
তবে দেশের একাধিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলছেন, আগে মানুষ ব্যাংকে এসে ৫০০ টাকার নোটই বেশি চাইত। এখন বড় অংকের টাকা তুলতে এলে গ্রাহক ১ হাজার টাকার নোট চাচ্ছেন। ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে কম টাকার নোট দিলে বেশির ভাগ গ্রাহকই তা নিতে চান না। ঘুস, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ মানুষের ঘরের সিন্দুকে ঢুকছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশি ছাপালেও ব্যাংকগুলোয় হাজার টাকার নোট থাকছে না।
এক দশক আগেও ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের ইস্যু করা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ইস্যু করা অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ সময় ব্যাংক খাতে নগদ অর্থ ছিল মাত্র ২৪ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৮ টাকাই ব্যাংকের বাইরে চলে গেছে।
দেশে উচ্চমূল্যের নোট ইস্যু যত বাড়ছে, ব্যাংকের বাইরে চলে যাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণও ততই বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু গত পাঁচ বছরেই দেশের ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ অন্তত ৭০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৮ সালের জুন শেষেও ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে যা ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এ হিসাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।
ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের বড় অংশই কালো টাকা বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান। তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ব্যাংকে রাখতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে এ অর্থের একটি অংশ দেশ থেকে পাচার হচ্ছে, অন্য অংশ বাড়িতে সিন্দুক বা বালিশ-তোশকে ঢুকছে। সিন্দুকে ঢুকে যাওয়া অর্থ দেশের অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখে না। লেনদেন ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটাল না হওয়া পর্যন্ত নগদ অর্থের চাহিদা কমবে না।’










