ঝালকাঠিতে পতিত জমিতে বরই চাষ করে সফল হচ্ছেন চাষীরা। ক্রমেই জেলায় সম্প্রসারিত হচ্ছে বরই চাষ। অল্প পুঁজি ও ঝুঁকি কম থাকায় বরই চাষে আগ্রহ বাড়ছে এ জেলার চাষীদের।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার কেওড়া
ইউনিয়নের সংগ্রামনীল গ্রামের বিজান মণ্ডল প্রথমে জমির সীমানায় পরীক্ষামূলকভাবে বরই চাষ করেন। এতে সফলতা পাওয়ার পর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। তিন বছর ধরে বাগান করছেন তিনি। পতিত জমিতে বরই চাষ করে সফলও হয়েছেন। তার বড় ভাই নিতাই মণ্ডল নিয়মিত বরই বাগান পরিচর্যা করেন। শুধু বিজান মণ্ডলই নন, অনেকেই বরই চাষ করে সফল হয়েছেন।
বাগানমালিক বিজান মণ্ডল জানান, নিজের জমি না থাকায় অন্যের কাছ থেকে তিন বছর আগে এক বিঘা পতিত জমি ইজারা নিয়ে বরই চাষের উপযোগী করে তোলেন তিনি। সাতক্ষীরা জেলা থেকে বাউ কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল এবং বল সুন্দরী কুলের চারা এনে রোপণ করেন ওই জমিতে।
চারা রোপণের মাত্র এক বছরেই তার বাগানের বরই গাছে বাম্পার ফলন ধরেছে। এ বছরও বরইয়ের ভারে নুয়ে পড়ছে গাছ। এখানকার বরই আকারে বড় ও
সুস্বাদু হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে বরই কিনে নিচ্ছেন। এখানের নারিকেল ও আপেল কুল ৯০ টাকা এবং বাউকুল ৬০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। নারিকেল ও আপেল কুল ১২০ টাকা এবং বাউকুল ৮০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে।
এ বাগানে জমি তৈরিসহ অন্যান্য খরচ বাবদ ১৩৪টি বরই গাছ লাগাতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলেও জানান বিজান মণ্ডল।
বাগানমালিক বিজান মণ্ডল বলেন, ‘কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা আমাদের খোঁজখবর নিলে আরো বেশি ফলন পেতাম। আমাদের অনেক উপকার হতো।’
বরই চাষে নিতাই ও বিজানের সফলতা দেখে এখানকার অন্যরাও এ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান। চাষীদের চাহিদা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ।










