ফরিদপুর সদর উপজেলার শিবরামপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন কয়েক একর জায়গাজুড়ে মামুন গ্রুপ নামে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মহাসড়কসংলগ্ন একটি সেতুর পাশ থেকে সরকারি খাল ভরাট করে প্রতিষ্ঠানটির ক্যান্টিন ও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা করা হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী সাহাপাড়ায় একটি কালভার্টের এক পাশে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এসব কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে ঈশান গোপালপুর ও মাচ্চর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি খাদ, টেংরামারা বিল, আধারমারা বিল ও তলাপত্তর বিলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব বিলের দুই হাজার একরের বেশি জমিতে চলতি মৌসুমে আমন আবাদ হয়নি। যদিও ভরাট করা অংশে পাইপ বসিয়ে নালা করা হয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে পানি নামছে ধীরগতিতে।

চাষীরা বলছেন, টানা বর্ষণে চারটি ফসলি মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব মাঠে আবাদ করা আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল তলিয়ে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে দুই সহস্রাধিক একর জমিতে ফসল আবাদ করা যায়নি। এসব মাঠে দুটি ইউনিয়নের শিবরামপুর, সাহাপাড়া, রসুলপুর, রুদ্রপাড়া, সুনাউল্লাহ পাড়া, বাছের কাজীর পাড়া, ফতেহপুরসহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের ফসলি জমি রয়েছে। মাঠে ধান, পাট, তিলসহ নানা ফসলের চাষাবাদ হয়। কয়েক বছর ধরে ফসল উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

কৃষক আক্তার হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ওই মাঠে আগে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন হতো। কয়েক বছর ধরে খালের মুখ সরু করে ফেলায় বছরের অধিকাংশ সময়জুড়েই জলাবদ্ধ থাকে। ফলে একটির বেশি ফসল উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষী ও কৃষক নেতারা জানান, এসব নিয়ে প্রশাসনে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আন্দোলনে নেমেছেন তারা। জনস্বার্থে দখলে নেয়া খাল পুনরুদ্ধারের দাবি তাদের।

তবে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাঈদ আনোয়ার জানান, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরিবেশ বিনষ্টের কোনো বিষয় থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা ইসরাত জাহান জানান, অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেউ আইন অমান্য করে খাল দখল করলে পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।