চায়ের চেয়ে কফি জনপ্রিয় হলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এখনো আসেনি পণ্যটি। যদিও দেশে কফি পানের হার বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম কফি পানের দিকে ঝুঁকছে। দেশেও বাড়ছে কফির আবাদ। চলমান চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে মৌলভীবাজারে পাহাড়ি টিলায় চাষ করা হচ্ছে পণ্যটি। সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের আকবরপুরে ১ হাজার কফি গাছের বাগান তৈরি করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল মান্নান। সাথী ফসল আনারসের সঙ্গে পাহাড়ি ৬ একর ৪০ শতক টিলায় গড়ে উঠেছে তার কফি বাগান।
২০১৯ সালে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় ৭০০ কফি গাছের চারা রোপণ করেন আবদুল মান্নান। পাঁচ বছর বয়সের পর থেকে কিছু গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রথম বছর শতাধিক গাছে এবং চলতি মৌসুমে তিন শতাধিক গাছে ফল এসেছে। লাভজনক হওয়ায় চলতি বছর তিনি আরো ৩০০টি চারা রোপণ করেছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল মান্নান জানান, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা জাতের কফি চাষ করেছেন তিনি। রোপণের পর প্রথম যখন গাছে ফল আসে, তখন প্রক্রিয়া করার ব্যবস্থা না থাকায় সরাসরি ফল বা কফি চেরি বিক্রি করেছেন। ঢাকার এক গ্রাহকের কাছে ৩০০ টাকা কেজি দরে ফলগুলো বিক্রি করেন। পরে কৃষি বিভাগ ফলের খোসা অপসারণ যন্ত্র দিয়েছে। সেই যন্ত্র দিয়ে চলতি মৌসুমে ফলের খোসা তুলে কফি বীজ বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি বীজ বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৬০০ টাকা।
তিনি জানান, কফি চাষে খরচ কম। প্রথম দিকে চারা রোপণ ও যত্ন করতে হয়। গাছ বড় হওয়ার পর শুকনো মৌসুমে পানি আর পাতায় পোকা ধরলে কিছু কীটনাশক স্প্রে করলেই হয়। এর বেশি কোনো খরচ নেই। প্রথম দিকে শখেরবশে হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে তিনি কফি চাষ বৃদ্ধি করেছেন। প্রথম ৭০০ গাছের সঙ্গে এ বছর আরো ৩০০ গাছ লাগিয়েছেন। একটি গাছে সর্বোচ্চ চার কেজি পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন। সব গাছে এখনো ফল আসেনি। সব গাছে ফল এলে কয়েক লাখ টাকার কফি বিক্রি করা যাবে।
কৃষি বিভাগ বলছে, মৌলভীবাজার জেলার মাটি ও আবহাওয়া কফি চাষের জন্য উপযোগী। বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা সদর, রাজনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এ বছর প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ হচ্ছে। তিন উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কফি গাছ রয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি সদর উপজেলায়। কফি গাছে সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে এ সময়কাল জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে যে দুটি জাতের কফি চাষ হয়, এর মধ্যে অ্যারাবিকার জন্য সাত মাস এবং রোবাস্টার জন্য নয় মাস ফুল থেকে ফল আসতে সময় লাগে। কফি গাছের পাকা ফলগুলোকে কফি চেরি বলা হয়। প্রতিটি চেরিতে দুটি কফি বীজ বা বিন থাকে। প্রায় ৫ শতাংশ চেরিতে একটি মাত্র বীজ থাকে; যাকে পিবেরি বলা হয়। সম্পূর্ণ পাকা ফল লাল বেগুনি রঙ ধারণ করলে তখন সংগ্রহ করা হয়।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিরোজ কান্তি রায় জানান, স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে তারা নিয়মিত কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষকরা কফি চেরি এবং খোসামুক্ত কফি বীজ বিক্রি করে লাভবান হলেও রোস্টিং ও প্যাকেটিং করে বাজারজাত করলে কয়েক গুণ বেশি লাভ হয়। কফি প্রক্রিয়াজাতের সুযোগ আগে ছিল না, কৃষি বিভাগ খোসামুক্ত করার দুটি মেশিন সরবরাহ করায় স্বল্প পরিসরে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।










