চুয়াডাঙ্গা জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবক ও এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে।
চুয়াডাঙ্গা ঘোষনগর ও মদনা গ্রামে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যুরা হলো,জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মরহুম রেজাউল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫) ও দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে ও দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র আজিমুদ্দিন (১৫)।
গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান সেখ জানান, দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়ির পাশের জমিতে তামাকের খড়ি গোছানোর সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে রাসেল গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিফা আনজুম হিমু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
অপরদিকে দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খাইরুল বাশার জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু আজিমুল ইসলামের বাবা মাঠে কৃষিকাজ করছিলো। বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই আজিমুল ইসলামের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দর্শনার একটি ক্লিনিকে নিতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
আজিমের বাবা তাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেটি আমাকে খাবার দিয়ে ফেরার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়। সে ‘আব্বা’ বলে একবার ডাক দিয়েই মাটিতে পড়ে যায়।’ বৃহস্পতিবার বাদ আসর পারকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, বজ্রপাতে স্কুলছাত্র আজিমুদ্দিনের মৃত্যুর খবরটি আমরা অবগত রয়েছি।
এছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মিজানুর রহমান পিলুর স্ত্রী। পুলিশ ও গৃহবধূর স্বজনরা জানান, দুপুরে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে রোজিনা গরুকে খাবার দিতে গোয়াল ঘরে গেলে পাশের একটি নারকেল গাছে বজ্রপাত হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মহেশপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










