বাগেরহাটের চিতলমারীতে খাল থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে ধসে গেছে নালুয়া-ভোলা সড়কের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ। এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে আরো অন্তত ৫০০ ফুট এলাকা।

এদিকে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক ধসে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ১৫ ডিসেম্বর সড়কটিতে ধস দেখা দেয়ার পর উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে বালি উত্তোলনে ব্যবহূত দুটি ড্রেজার জব্দ করে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় হক ক্যানেল থেকে বালি উত্তোলনের ফলে রাস্তার এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, বালি উত্তোলনের কোনো তথ্য তার কাছে নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, নালুয়া-ভোলা সড়কটির চার কিলোমিটারের পাশে রয়েছে ৩০-৪০ ফুট চওড়া হক ক্যানেল (কাটাখাল)। এই ক্যানেলের বিভিন্ন জায়গায় ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করা হয়েছে। বালি উত্তোলনের ফলে ক্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কের বড়বাড়িয়া মোহাম্মাদ আলীর বাড়ির সামনের রাস্তার ১৫০-২০০ ফুট ক্যানেলের পাশ থেকে ধসে গেছে। ১২ ডিসেম্বর থেকে প্রথমে ধস দেখা দেয়। ১৫ ডিসেম্বর ধসের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে ওই সড়ক দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আরো প্রায় ৫০০ ফুট সড়ক।

অন্যদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে খনন করেছে। সড়কের কোলঘেঁষে এক্সক্যাভেটর দিয়ে খননের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন শেখ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সরদার মাসুদুর রহমান এ খালে ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলন করে বিভিন্ন লোক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছেন। চেয়ারম্যানকে বারবার মানা করা হলেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। এখন জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মোহাম্মাদ আলীর বাড়ির সামনে থেকে ধসের ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। ভ্যান ও অটোতে যারা চলছে তারাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ১৫ ডিসেম্বর রাতে ধসে যাওয়া সড়কে চলাচলের সময় একটি অটোরিকশা উল্টে শিশুসহ দুজন আহত হয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলেনা পারভীন বলেন, রাস্তাটি ধসের ফলে জনগণ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে। যাদের বালি উত্তোলনের ফলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

চিতলমারী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবেরা কামাল স্বপ্না বলেন, আমরা সড়কটি পরিদর্শন করেছি। এখানে চলাচলে মানুষের দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। যারা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

যদিও বালি উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান সরদার মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ায় আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি বালি উত্তোলনে জড়িত নই। যারা বালি উত্তোলন করেছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম বলেন, বিভিন্ন সময় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন ও খাল খননের ফলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের জন্য ব্যবহূত দুটি ড্রেজার মেশিন ও আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করেছি। কিন্তু ওই ড্রেজার মেশিনের কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। জব্দ করার পর কেউ ড্রেজারের মালিকানাও দাবি করেননি। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে আমরা এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে। তদন্ত কমিটি করে রাস্তার ধসের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।