গ্যাসের অপচয় এবং সিস্টেমলস রোধে রাজধানীতে দুই লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর এ প্রকল্পে বেশ সাড়া পায় সংস্থাটি। ফলে গ্রাহক সুবিধা দিতে নতুন করে আরো ১ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন শুরু করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, ৬০ ফুট, উত্তরা, পীরেরবাগ, ডিওএইচএসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনে জোরেশোরে কাজ শুরু হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, দ্বিতীয় ধাপে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। যারা প্রিপেইড মিটার লাগাতে আগ্রহী, তাদের আঙিনায় স্থাপন করা হচ্ছে। যারা আগ্রহী নন, তারা চাইলে পরে বসিয়ে নিতে পারবেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উত্তরা ও মিরপুর কলোনি এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনে কাজ করছেন অর্ধশতাধিক কর্মী। সকাল থেকে শুরু করে এ কাজ চলছে বিকাল পর্যন্ত। শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তালিকা করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ করছেন তারা।

প্রিপেইড মিটারের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ফয়জার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, মোট ১ লাখ ২০ হাজার মিটারের জুনের মধ্যে ৫০ হাজার স্থাপন করার চেষ্টা করছি। তবে করোনার মধ্যে এ ধরনের কাজ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। মহামারীর মধ্যে সরকারি নির্দেশনা মেনেই কাজ চলবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ‘ইনস্টল অব প্রিপেইড গ্যাস মিটার ফর টিজিটিডিসিএল’-এর আওতায় মূলত দুই লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। এ প্রকল্পের সম্প্রসারণ করে দ্বিতীয় ধাপে প্রিপেইড মিটার প্রকল্পে ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, যা জাইকার এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নতুন করে প্রকল্পের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত। রাজধানীর মেট্রোপলিটনের ৩৪টি এলাকার সঙ্গে আরো সাতটি এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বংশাল, গেন্ডারিয়া, হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ, নিউমার্কেট ও শাহবাগের তিতাসের গ্রাহকরা এবারের প্রকল্প সুবিধার আওতায় আসবে।

তিতাস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপনে গ্রাহকের কোনো খরচ নেই। প্রতি মাসে গ্যাস বিলের সঙ্গে ৬০ টাকা চার্জ যুক্ত করে মিটার বিল কেটে নেয়া হবে। মিটার স্থাপনের পর থেকে আগামী ২০ বছর এ টাকা কাটবে সংস্থাটি। জাপানের টয়োকিকি কোম্পানি লিমিটেড এ মিটার সরবরাহ করছে।

তবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন নিয়ে অনেক গ্রাহকের অনীহাও দেখা গেছে। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরু হলেও অনেকে এ সংযোগ নিতে ইচ্ছুক নন। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে বিল বেশি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা সংযোগ নিচ্ছেন না।

রাজধানীর ৬০ ফুট এলাকার বাসিন্দা রাজিবুল ইসলাম জানান, এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চলছে। তবে আপাতত সংযোগ নিচ্ছি না। পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারে সন্তুষ্ট তিনি। প্রিপেইড মিটারে বিল কম হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, শুনেছি কম বিল আসে, তবে অনেকে মিটার নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন, যে কারণে আপাতত সংযোগ নেব না।

তবে গ্রাহকের অভিযোগ নতুন কিছু নয়, এর আগে তিতাসের প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় মিটার বসানো হলেও তাতে সংযোগ পেতে সময় লাগছে ছয় থেকে আট মাস। ঠিক কী কারণে এত সময় লাগছে, তারও সদুত্তর দিতে পারেননি কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)। প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন প্রকল্পটি মূলত অনুমোদন হয় ২০১৫ সালে। দুই লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনে শুরুতেই ব্যয় ধরা হয় ৭১২ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে ৪৯৮ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু মিটার বসাতে গিয়ে বিলম্ব হওয়ায় পুনরায় খরচ বেড়ে ৭১২ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় ৭৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দেখা যায়, সিংহভাগ মিটার বসলেও সংযোগ পেতে গ্রাহকরা এখনো সংস্থাটির কাছে ছুটছে।

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে গ্যাস বিতরণে নিয়োজিত তিতাসের মোট আবাসিক গ্রাহক ২৮ লাখ ৫৫ হাজার। সংস্থাটির মোট গ্রাহকের মাত্র দুই লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার সংযোগ পেয়েছে। বাকি গ্রাহক কবে পাবে তা এখনো অনিশ্চিত।

তিতাসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, তিতাস গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার স্থাপনে বড় ধরনের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজারের একটি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ৫ লাখ ৫০ হাজারের একটি প্রকল্প আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।