চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবর অনুসারে, কোথাও হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা বা দীর্ঘ ভোটার জটের খবর পাওয়া যায়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন ভোটাররা।
সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দৃশ্যমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেকেই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তারা।
নগরীর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করবেন।’
ন্যাশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়া মো. শফিউল আলম বলেন, ‘আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ আমার কাছে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।’
নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা মো. অলি উদ্দিন বলেন, ‘দেশের পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করতে তরুণদের অংশগ্রহণ জরুরি। দীর্ঘদিন ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। এবার প্রত্যাশা নিয়েই তরুণ-প্রবীণ সবাই এসেছে ভোট দিতে। আশা করি মানুষের ভোটের মাধ্যমে নেয়া ফলাফল প্রতিফলিত হবে।’
চট্টগ্রাম নগরের চারটি সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-৮, ৯, ১০ ও ১১-এ ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩৮। ১২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলমান।
সার্বিকভাবে জেলায় ১৬টি সংসদীয় আসনে ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চট্টগ্রামে মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭। এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭, নারী ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন। ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ৬০১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে।















