মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম শেষ হয় না। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা সে কথাই প্রমাণ করেছে। কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ রচিত ‘স্বাধীনতা গণতন্ত্র মানবাধিকার: আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ ২০০৯-২০২৩’ বইয়ের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বইটির ওপর আলোচনা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন এবং লেখক, গবেষক ও শিক্ষক পারসা সানজানা সাজিদ।
বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ফ্যাসিস্ট সময়ে দেশে স্বাধীনতা একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর প্রভাবে আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরও মনে হয় না কেউ শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। একটা ফ্যাসিস্ট রেজিমে বাইরে থেকে সবকিছু গোছানো মনে হয়। কিন্তু ভেতরে সব কিছু ফাঁকা। এমন অবস্থায় ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যায়, তখন আমরা যারা দায়িত্ব পাই তখন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। অর্থনৈতিক গ্যাপ পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। সংস্কারের চ্যালেঞ্জ কারো জন্যই সহজ ছিল না। আমাদের জন্যও সহজ নয়।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, বইটির উৎসর্গপত্রটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। সেখানে লেখা আছে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম শেষ হয় না। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা সে কথাই প্রমাণ করেছে। এ বইয়ের প্রতিটি লেখা একটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্র ভূমিকা রাখছে। প্রতিকূলতা থাকে, এর মধ্যেও সংবাদপত্র তার কাজ করে যায়।
নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল বলেন, বইয়ের নামটি আরো চমৎকার হওয়ার প্রয়োজন ছিল। বইটি মূলত হাসিনাশাহীর আমলে কীভাবে বিএনপির ওপরে নির্যাতন-নিপীড়ন চলেছে তার একটি ডকুমেন্ট। এ বইয়ের নাম হতে পারত বিএনপিনামা বা বিএনপির দিনলিপি। বইটি শুধু ডেস্কে বসে মতামত লেখাতেই সীমাবদ্ধ নয়, লেখক মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজ করেছেন। বিএনপির সমাবেশে একজন চিড়ামুড়িওয়ালা কীভাবে এসেছেন সে গল্প এ বইয়ে রয়েছে। বইটিতে তারুণ্যের দেশ গড়ার প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুর রহমান বলেন, এ দেশ আমাদের সবার। দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। অনেকের রক্তে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। কোনো একটা গোষ্ঠী যদি গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের ফসল বলে দাবি করতে চায় সেটা আমরা মেনে নেব না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা গণতন্ত্র মানবাধিকার বইটার নাম প্রথমে ছিল শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা এ নামে বইটি প্রকাশ করতে পারিনি হলি গোস্টের কারণে। কথায় আছে না, সবাই জানে হলি গোস্টের কথা, কিন্তু কেউ তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারবে না। আমরা চাই এমন ভয়ের হলি গোস্টের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে।










