গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হুমকির ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
ডিবিপ্রধান বলেন, ‘হুমকির ঘটনায় ই-মেইলের মাধ্যমে যেসব বিকাশ নম্বর দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর সূত্র ধরে তিন থেকে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। তারা সবাই নিরীহ ব্যক্তি।’
শফিকুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে তিন থেকে চারটি দূতাবাস এবং কয়েকটি সরকারি দপ্তর এ ধরনের হুমকি পেয়েছে। তার ভাষ্য, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য রাষ্ট্রদূতদের ভীতসন্ত্রস্ত করা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হতে পারে। তিনি ঘটনাটিকে ‘দেশবিরোধী অপতৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চিকিৎসক ও দূতাবাসে চাঁদা দাবির ঘটনা একই চক্রের কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘দুটি ঘটনা ভিন্ন গ্রুপের।’
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় একটি চক্রকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সানি এ চক্রের মূল হোতা।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ আগস্ট রাতে ঢাকার শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ওঠার সময় হামলার শিকার হন ৫৫ বছর বয়সী চিকিৎসক আসাদুর রহমান।
হামলায় তার মাথা, মুখ ও চোখে আঘাত লাগে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকের করা পল্টন থানার মামলার তথ্য অনুযায়ী, হামলার কয়েকদিন আগে তার কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। মামলার তদন্তে লক্ষ্মীপুর থেকে ইভান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জীবন ওরফে আদিল নামের আরেকজনকেও ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল।
ডিবিপ্রধান বলেন, ‘ইভানকে জিজ্ঞাসাবাদে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের নাম, ঠিকানা, গাড়ির নম্বর ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করত। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করত।’
ইভানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সানি সাহা ও লাবিবকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনে ব্যবহারের জন্য একটি ছুরি ও একটি তরবারি উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটিতে মোট সাতজন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে আরো তিন থেকে চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। অচিরেই তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান।










