গতকাল বেলা ১টার দিকে যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ক্যাপ্টেন রিফাতের নেতৃত্বে ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি কৃষক সাইফুল তার জমিতে সেচ দেয়ার জন্য নালা খনন করতে গিয়ে মাইনগুলো দেখতে পান। এর পর থেকে পুলিশ সেগুলো পাহারা দিচ্ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এসব ল্যান্ডমাইন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনী ব্যবহারের জন্য এনেছিল। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশ ত্যাগ করে, তখন তারা এগুলো পুঁতে রেখেছিল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা শহিদুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে ল্যান্ডমাইনগুলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ফেলে রেখে যাওয়া। যশোর ৫৫ পদাতিক সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিডিটির ১০ সদস্যের একটি দল এসে এগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে।

সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘ এক মাস পাহারা দেয়ার পর সেনাবাহিনীর একটি দল এসে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল তা এখন কেটে গেছে।

মাখালডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ল্যান্ডমাইনগুলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। সে সময় বহু পাকিস্তানি সৈন্য মাখালডাঙ্গা গাড়াবাড়িয়া ও দিননাথপুর এলাকায় যুদ্ধ করত। যুদ্ধ শেষে তারা চলে যাওয়ার সময় হয়তো ল্যান্ডমাইনগুলো পুঁতে রেখে গেছে।’

গাইদঘাট গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম জানান, পাকিস্তানি বাহিনী বড় বড় ব্রিজ-কালভার্ট, ট্রাক, ট্যাংক ধ্বংস করতে এসব ল্যান্ডমাইন ব্যবহার করত। যুদ্ধের পর প্রায় ৫৫ বছর পার হতে যাচ্ছে। মাইনগুলো হয়তো আগের মতো শক্তিশালী অবস্থায় নেই। তবে মাইনগুলোর গায়ে হলুদ রঙের লেখা স্পষ্ট ও অবয়ব নতুনের মতোই আছে।’