ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নার্স ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকটও প্রকট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। সেই হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংখ্যা ১৯ জন। তবে এদের মধ্যে প্রেষণে আছেন নয়জন। তাই জোড়াতালি দিয়ে সেবা দিচ্ছেন মাত্র সাতজন চিকিৎসক। যে ক’জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন, তারাও নিয়মিত আসেন না।
অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নার্সদের ৩৬টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে তিনটি পদ। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ৩০ জন থাকার কথা হলেও রয়েছেন ১২ জন। বাকি ১৮টি পদই খালি পড়ে আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. জান্নাতুন নাঈম ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন জয়নাল আবেদীন। গতকাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লিপি রানী সরকার বলেন, আমার স্বামী হূদরোগজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে হূদরোগের চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টরা আমার রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
এ ব্যাপারে জানতে ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যবহূত মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিয়েও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেলি শারমীন বলেন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তার ইচ্ছামতো অফিস করেন। তিনি একদিন পর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। ডা. জান্নাতুন নাঈম এক মাস ২০ দিন ধরে আসেন না। ডা. জয়নাল আবেদীনও একদিন পর পর কর্মস্থলে আসেন। কয়েক দিন আগে তিনি ছুটির আবেদন দিয়ে চলে গেছেন। আমি বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন এবিএম মশিউল আলম বলেন, চিকিৎসকদের অনিয়মিত কর্মস্থলে আসার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।










