জেলার ডামুড্যা উপজেলায় সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধান ও চাল সংগ্রহের বেঁধে দেয়া সময়ের এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এখনো লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কাছেও পৌঁছতে পারেনি উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ধান ও চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করছেন কৃষকরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের জুন থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছে চাল কেনা শুরু হয়েছে। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। তবে গতকাল ৯ আগস্ট পর্যন্ত ডামুড্যা খাদ্যগুদামে ৩৬১ টন ধানের বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৯২ টন। আর ৮০০ টন চালের বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ১২৫ টন। এছাড়া ১০৮ টন গম সংগ্রহ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এক কেজিও সংগ্রহ করতে পারেনি ডামুড্যা খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ।

কৃষকরা জানান, সরকারি মূল্যের সঙ্গে বাজারে ধানের মূল্য কিছুটা বেশি। এছাড়া গুদামে কৃষকরা ধান নিয়ে গেলে পদে পদে হয়রানি হয় তাদের। কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার ও নানা শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই বাজারে ধান বিক্রি করতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

আনোয়ার হোসেন সরদার নামে এক কৃষক জানান, দূরের গ্রাম থেকে ডামুড্যা খাদ্যগুদামে ধান নিয়ে গেলে গাড়ি ভাড়া, সময় ও শ্রম ব্যয় হয়। এর পরও যদি শর্ত পূরণ করা না হয়, তবে ধান নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসতে হয়। এতে কৃষকরা হয়রানি ও আর্থিক দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে খাদ্যগুদামে সরকারি ধান, চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের মধ্যে রয়েছে খাবার অযোগ্য, নিম্নমানের, পচা ও পোকাযুক্ত চাল সংগ্রহ করে গুদামজাত করা, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য জেলা থেকে চাল সংগ্রহ করা। এছাড়া যেসব মিলে বয়লার ও চিমনি নেই, সেসব হাস্কিং মিল মালিকদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করার মতো অভিযোগ উঠেছে। রয়েছে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ধান কেনাসহ অসংখ্য অভিযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডামুড্যা উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বুলবুল হাসান অসুস্থতার অজুহাতে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের বিষয়ে তার কোনো কর্মতত্পরতা ছিল না। যে কারণে সময় শেষ হতে চললেও ধান ও চাল সংগ্রহে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অর্ধেকেও পৌঁছনো যায়নি।

তবে নিম্নমানের, পচা ও পোকাযুক্ত চাল সংগ্রহের কথা অস্বীকার করেছেন ডামুড্যা উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বুলবুল হাসান। তিনি বলেন, বাইরের বাজারের চেয়ে সরকারি দাম কিছুটা কম। যে কারণে কৃষকরা গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কৃষকরা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান ও চাল না দিয়ে বেশি দর পেয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।