ভ্রমণবান্ধব মৌসুম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ও নতুন বর্ষবরণের আমেজে বছর শেষে পর্যটকে মুখর থাকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এর মাঝে আজ শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে বড়দিনের ছুটি। এই তিন দিনের ছুটিতে ভীষণ সরগরম সৈকত শহরটি। বিপুল পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে গলাকাটা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এবারও।
কক্সবাজারের হোটেল মেটেল জোনে শতভাগ রুম বুকিং হয়ে গিয়েছে। সড়কের পাশাপাশি চাপ
বেড়েছে আকাশপথে। বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে দিনে ৪০টি ফ্লাইট ওঠা-নামা করছে।
আজ সকাল থেকে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার
এলাকা জুড়ে দেখা গেছে পর্যটকের উপড়ে পড়া ভিড়। কেউ মিষ্টি রোদে বালিয়াড়িতে ছোটাছুটি
করছেন তো কেউ সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসাচ্ছেন।
সমুদ্র উপকূলের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে আবার কেউবা বন্ধুদের
নিয়ে বের হয়েছেন। তারা এ মৌসুমের বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানান।
ঢাকার সাভার থেকে আসা পর্যটক নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ তাই
পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। কক্সবাজারের পরিবেশ অনেকটা ভালো। রাস্তাঘাটেরও অনেক পরিবর্তন
হয়েছে। সৈকতের ঘুরে বেড়ানোর আনন্দনই আলাদা।’
আরেক পর্যটক হাসেম জানান, দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারে অনেক পর্যটন
স্পট উন্মুক্ত। বরাবরের মতোই প্রকৃতির ইশারায় কক্সবাজার চলে আসে মানুষ। বাচ্চাদের পরীক্ষা
শেষ হওয়ায় তিন দিনের ছুটিতে এসেছেন তিনি।
সমুদ্র পাড়ে সকাল থেকে ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানান সি সেইফ লাইফগার্ডের
কর্মী জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে লাইফগার্ড
সদস্যরা। তারপরও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঘাটতি নেই তাদের। সমুদ্রে গোসলে নামতে গিয়ে যাতে
কোনো দূর্ঘটনায় পড়তে না হয় সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে সৈকতের সবকটি পয়েন্টে।
শহরের সব হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসের সব রুম বুকিং হয়ে গিয়েছে বলে জানালেন কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। তিনি বলেন, আজ থেকে রোববার পর্যন্ত কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেলে কোনো রুম নেই। যার কারণে পর্যটকরা রুম পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম
বিল্লাহ জানান, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
করা হয়েছে।
এমন উৎসব পরিবেশে হোটেল-মোটেলে ‘গলাকাটা বাণিজ্যের’ অভিযোগ উঠেছে। হোটেল ভাড়া
নিয়ে কোন তালিকা না থাকায় অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে ঠকছেন পর্যটকরা।
এ বিষয়ে হোটেল বে মেরিনার ম্যানেজার রফিক উল্লাহ জানান, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে
থার্টি ফাস্ট নাইট পর্যন্ত কোনো রুম খালি থাকছে না। তবে বিভিন্ন কারণে দাম একটু আদায়
করা হচ্ছে।
শুধু রেস্তোরাঁ নয়, রিকশা, নৌকা, অটোরিকশা ভাড়া, পর্যটন স্থানের বিভিন্ন দোকানের
পণ্যের দামও হাঁকা হয়েছে বাড়তি। এমনকি পর্যটন কেন্দ্রের আশপাশে ভিক্ষুকের উৎপাত বেড়েছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে বলা হচ্ছে, তারা নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন
এবার। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি
পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম। এ মৌসুমে দেশের সব জায়গা থেকে কক্সবাজারে মানুষের চাপ বাড়ে।
এ সময়ে মানুষজন যখন ছুটিতে থাকে, আমাদের সদস্যদের কোনো ছুটি থাকে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায়
সবসময় আমাদের সর্বোচ্চ নজরদারি থাকে।










