কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার
করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার
অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৯ জুলাই) রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে
কয়েকজন সাদা পোশাকধারী তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) তাকে বিস্ফোরক মামলায়
গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) শেখ মোবারক পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রাবির সাবেক ওই শিক্ষার্থীর নাম রাশেদ রাজন (২৮)। তিনি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে পড়ালেখা শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি চাকরির
প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এছাড়া তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাম্পাস লাইভে কাজ করেছেন।
রাশেদ রাজনের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই সারা দেশের
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ
করে বিক্ষোভ করেন। এমন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন রাশেদ
রাজন। এছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পোস্ট করায় তাকে ডিবি
পরিচয়ে নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে তুলে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ৩০ জুলাই
তাকে কোর্টে চালান করে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সমন্বয়ক মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে গেছে।
সে জায়গা থেকে অনেকেই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন। আবার যারা সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন না
তারা অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের ছবি, ভিডিও পোস্ট করে প্রতিবাদ
করছেন। রাশেদ রাজন ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করায় সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক
বজায় ছিল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে নিজেও দেশজুড়ে
গণহত্যার প্রতিবাদ করছেন। আমরা তার গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানাই। পুরো দেশটা এখন
জেলখানা, যাকে ইচ্ছা তাকেই রাতের আধারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, গ্রেফতার করছে ও
রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোবারক পারভেজ বলেন, রাশেদ রাজন নামের ওই শিক্ষার্থীকে ডিবি পুলিশ আটক করেছিলেন। পরে মতিহার থানায় পাঠানো হলে সেখান থেকে তাকে কোর্টে চালান করা হয়। বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।










