সিলেটের হাকালুকি হাওরে ছোট-বড় ও মাঝারি মিলিয়ে ২৩৮টি বিল রয়েছে। প্রতি বছরই শীতের সময় এসব বিলে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এবারো এসেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দরা। নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি হওয়ায় পাখির সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার হাওরে বালিহাঁস, ভূতিহাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, সরালি, পানভুলানি, কালিম, টিটি, পেডিসহ অন্তত ১৫-২০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এসেছে। তবে এর মধ্যে বালিহাঁস ও ভূতিহাঁসের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া সাদা বক, কানি বক, পানকৌঁড়ি, চিল, বাজসহ দেশীয় প্রজাতির পাখিও রয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবিরহাওর লাল শাপলা বিলেও এ বছর অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। দেখা মিলছে বালিহাঁস, শামুকখোল, মেটেমাথাটিটি, সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙ্গা, নীলকণ্ঠি, সরালি হাঁস, জলময়ূরসহ অসংখ্য পাখি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সংখ্যায় বেশি অতিথি পাখির দেখা মিলেছে লাল শাপলার বিলে।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, ‘লাল শাপলা বিলে সৌন্দর্যবর্ধনে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এর সুফলও মিলছে। জৈন্তা ফটোগ্রাফি সোসাইটি নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ও তাদের অর্থায়নে বনায়ন সৃষ্টি করা হচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিলটি হয়ে উঠবে নিরাপদ অতিথি পাখির আভাসস্থল।’

তবে হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর ও বাইক্কা বিলে এবারো অতিথি পাখি শিকারের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমি সন্তান বাংলাদেশের সংগঠক শুয়াইবুল হাসান বলেন, ‘একশ্রেণীর লোভী মানুষ এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছে। আমাদের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য পাখি বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আরো কঠোর হওয়া জরুরি।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী, পরিযায়ী পাখি হত্যার দায়ে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। একইভাবে কোনো ব্যক্তি যদি পরিযায়ী পাখির মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করে, দখলে রাখে কিংবা ক্রয়-বিক্রয় বা পরিবহন করে, সেক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। পাখি রক্ষায় আমাদের সচেতন এবং আইন প্রয়োগে আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন।’

সিলেট বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাখি শিকারিদের বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বন বিভাগের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সচেতনতা কার্যক্রমও চালিয়ে আসছি আমরা।’

সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, ‘পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখি শিকার বন্ধে জনগণকে নানাভাবে সচেতন করা হচ্ছে। পাখি শিকার ও বিক্রি রোধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়।’