খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিন্ডিকেট সভায় সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষিপ্তভাবে হল ছেড়ে যাচ্ছেন। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকেই শিক্ষার্থীরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৯৯তম জরুরি সভায় সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের আন্দোলন দমানো, ভিন্ন খাতে প্রবাহিত এবং দীর্ঘায়িত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ চলছে।
বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশের পর তারা আর নিরাপদ বোধ করছেন না। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বাড়ি চলে যাচ্ছেন। তবে তাদের আশা, ক্যাম্পাসে যে সঙ্কট চলছে অচিরেই তা কেটে গিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসবে।
কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় কুয়েট পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা আসে মঙ্গলবার।
এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অপর এক সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনে আবারো তালা লাগাতে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা তালা না লাগিয়ে সেখান থেকে ফিরে যান।
১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হন। পরের দিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংঘর্ষের ওই ঘটনার তদন্তে কমিটিও করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংঘর্ষের দিন পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দেয় সেনাবাহিনী। শুক্রবার তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে খানজাহান আলী থানার ওসি কবীর হোসেন জানান।
গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সব রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনকে লাল কার্ড দেখান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। রোববার শিক্ষার্থীরা খুলনা থেকে ঢাকায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন। এতে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।










