দেশের গ্রামাঞ্চলের ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে তৈরি হওয়া সংকটকে গভীর উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবা বন্ধ করে দাবি আদায়ের পদক্ষেপকে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ আখ্যা দিয়ে ক্যাব তাদের অনৈতিক চাপে নতি স্বীকার না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আজ রোববার (২০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ এ আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী গত কয়েক মাস ধরে সমিতি ও বোর্ড একীভূতকরণ, অভিন্ন চাকরিবিধি এবং অনিয়মিত কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এরপর তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেন। যার ফলে দেশের ৮০টির মধ্যে ৬০টি সমিতির বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এ সময় বিপুলসংখ্যক গ্রাহক কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিলেন।
পরে সরকারের বিশেষ সহকারীর সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিত করা হলেও, ক্যাবের নেতারা বলেন, এ ধরনের সংকট মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। তারা আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতের স্থাপনাগুলো কি-পয়েন্ট ইনস্টলেশনের (কেপিআই) আওতায় হওয়ায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।
বিবৃতিতে ক্যাবের নেতারা আরো বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দাবিগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে উত্থাপন করা উচিত ছিল। হুমকি-ধামকি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের মতো শৃঙ্খলাবিরোধী পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলোতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।









