ডিউটির জরুরি কল পেয়ে শুক্রবার রামপুরার বাসা থেকে বের হন পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূইয়া। কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পথে রামপুরা ব্রিজে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েন। একপর্যায়ে বেদম প্রহারে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ফরাজী হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে ওই পুলিশ সদস্যকে বের করে দিতে বাধ্য হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে মাসুদ পারভেজকে নেয়া হয় রাজারবাগে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, শুধু এ মাসুদ পারভেজই নন, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন তিন পুলিশ সদস্য। আহত হয়েছেন ৬৫০।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবারের সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তারা হলেন পিবিআইএতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূইয়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন বিভাগের নায়েক গিয়াস উদ্দিন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মুক্তাদির। তিনজনই রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর বাইরে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে ৬৪৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূইয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রুবেল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুক্রবার রামপুরায় আহত হওয়ার পর দুজন শিক্ষার্থী পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূইয়াকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। এ সময় হাসপাতালের বাইরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। আহত পুলিশ সদস্যের চিকিৎসা শুরুর আগেই আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে হাসপাতালের পেছন গেট দিয়ে একটি রিকশা ডেকে ওনাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
এছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথের ভেতর থেকে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত আরেক পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার তথ্যও জানান তিনি।
রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে গিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তাদের ওপর এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক ঘটনা। অতীতেও বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্যরা জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হতাহত হয়েছেন। এখনো একই কায়দায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে দেশে সান্ধ্য আইন চালু হয়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। দাবি মেনে নেয়ার পরও যারা ফিরে যাবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা উচ্ছৃঙ্খলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের তথ্য প্রদান করলে গোপনীয়তা রক্ষা করে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে।’










