সনাতন ধর্মীয়দের দীপাবলি উৎসব উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ-বিজিবি) সহায়তায় বসল ভারত-বাংলাদেশের নাগরিকদের মিলন মেলা। সোমবার (২৮ অক্টোবর) কয়েক ঘন্টার এই উৎসবে মেতেছিলেন দুই দেশের স্থানীয় লোকজনের স্বজনরা। ছুঁয়ে দেখতে না পারলেও এক ঝলক দেখা আর সামনাসামনি খানিকটা কথা বলার সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরলেন সবাই।

প্রতি বছরের মতো এবারও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর সীমান্তে সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে এই মিলন মেলা বসে। ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশি বিজিবির জোয়ানরা সতর্ক প্রহরার স্থানীয়দের সাথে দেখা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন। এতে উভয় দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিজিবি-বিএসএফ সদস্যদের মধ্যেও মতবিনিময় করতে দেখা যায়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সনাতন ধর্মীয়দের দ্বিতীয় বড় উৎসব শ্যামাপূজা (দীপাবলি) উপলক্ষ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দেওয়ায় দুই দেশের স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি উভয় দেশের অভ্যন্তরে থাকা স্বজনরা একে অপরের সাথে সাক্ষাত করে কুশল বিনিময় করেছেন। এ সময় কেউ কেউ অনেক দিন পর প্রিয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের সাক্ষাৎ পেয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। অনেকে হাস্যোজ্জল চোখে মুখে প্রিয় স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন। চোখে চোখ রেখে জীবনের নানা গল্প সেরে নির্বিঘ্নে আপন আপন বাড়িতে ফিরে যান।

দুই দেশের নাগরিকদের মিলন মেলা দেখতে গিয়েছিলেন পাটগ্রাম উপজেলার তরুন শামসুদ্দোহা (২৫) ও জোংড়া ইউনিয়নের শিউলী রানীসহ অনেকে। তাদের মধ্যে শামসুদ্দোহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনেক সময় ভারতীয় বিএসএফ জোয়ানদের সীমান্তে অহেতুক মারমুখী আচরণ দেখা যায়। কিন্তু এই শ্যামাপূজা উপলক্ষ্যে উভয় দেশের নাগরিকদের এই মিলন মেলায় আজকে তারা যে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেখিয়েছে। এতে শুধু দুই দেশের নাগরিকদের মাঝেই নয়; বিজিবি-বিএসএফের মধ্যেও সম্পর্কের আরো নতুন মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এজন্য প্রতিবছর উভয় দেশের উৎসব গুলোতে এই ধরনের মিলন মেলা রাষ্ট্রীয়ভাবেই আয়োজন করা যেতে পারে।’