তীব্র শীতে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত এক মাসে সাতক্ষীরা সদর ও শিশু হাসপাতালে ৩০০-এর বেশি শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় তাপমাত্রার তারতম্য ঘটছে। এ কারণে শিশুদের রোগ দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় শিশুদের ঘরের বাইরে না নেয়ার পাশাপাশি ফুটানো পানি ও শুষ্ক খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন জানান, গত দুই-তিন বছর সাতক্ষীরা অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণেই মূলত আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমানে যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে, সাতক্ষীরায় তা দুই-একদিনের মধ্যে আরো কমে আসবে। এজন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনার বিভাগীয় উপপরিচালক সরদার শরীফুল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় তাপমাত্রার ব্যত্যয় ঘটছে। গত কয়েক বছর এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তেমন লক্ষ করা যায়নি। আবার গত বছরের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।’ তবে পরিবেশ ঠিক রাখতে জনসাধারণের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫০টি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বড়দল গ্রামের হেলেনা খাতুনের তিন মাস বয়সী শিশু সন্তান হামজালা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। গত সোমবার তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের জবা খাতুনের সাত মাস বয়সী শিশু সন্তান আজমীর হোসেনও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বাউখালী গ্রামের রেশমা খাতুনের মেয়ে ফারিয়ার বয়স ১৪ মাস। সেও ডায়রিয়া আক্রান্ত। ৩ জানুয়ারি তাকেও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান জানান, এমন শীতে শিশুদের ঘরের বাইরে বের না করার পাশাপাশি তাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে মায়েদের। তাছাড়া আক্রান্ত শিশুদের কাছাকাছি অন্য শিশুদের না থাকার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবুল বাসার জানান, সম্প্রতি কোল্ড ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০২টি শিশু ভর্তি হয়েছে শিশু হাসপাতালে। চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের ঠাণ্ডা না লাগানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সামছুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শীতের তীব্রতা বাড়ায় শিশুদের বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। এ সময় অভিভাবক বা মায়েদের সতর্ক থাকতে হবে, শিশুদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে। তাছাড়া ফুটানো পানি ও শুষ্ক খাবার খেতে দিতে হবে শিশুদের। শীত কমে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’