বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পর্শে নিহত পাঁচজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ভক্তরা রথের রশি টানতে থাকায় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকাল ৫টায় বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী ইসকন মন্দিরের কাছে রথযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরপর বিকাল সোয়া ৫টায় রথের প্রায় ১৫-১৬ হাজার ভক্ত রশি ধরে টানতে থাকেন কিছুদূর যাওয়ার পরই সেউজগাড়ী আমতলায় বিদ্যুতের ১১ হাজার ভোল্টের তারের সঙ্গে রথের চূড়া স্পর্শ করে। এতে রথটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এতে রথের ওপর ও নিচে থাকা প্রায় অর্ধশত ভক্ত বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিটকে পড়েন। তারা চেতনা হারিয়ে ফেলেন। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশ সদস্য এসে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেয়ার সময় এক নারী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়ার সময় চারজন মারা যান।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হতাহতের ঘটনায় একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিএম ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য হয়েছেন পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি। নিহতদের সৎকার বাবদ পরিবারের সদস্যদের কাছে ২৫ হাজার করে টাকা দিয়েছে প্রশাসন।
রথযাত্রা উৎসব আয়োজক বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী পালপাড়া আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন মন্দির) সেবায়েত (অধ্যক্ষ) খরাজিতা কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারী জানান, ২০০৪ সাল থেকে থেকে এখানে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। ১৫ হাজারের বেশি ভক্ত প্রতি বছর এই উৎসবে যোগ দেন। এবারের রথযাত্রা সঠিকভাবে পালন ও নিরাপদে চলাচলের জন্য ১০০ জন সেবক ছিলেন। রথযাত্রার চূড়া বিদ্যুৎ বা অন্য কারো সঙ্গে ধাক্কা যেন না লাগে সে বিষয়ে অতিসাবধীন ছিলেন সেবকরা। রথের চূড়া ওঠানো-নামানোর জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া ছিল। রথ চালানোর দায়িত্বে ছিলেন ২৫ জন সেবক। কিন্তু প্রায় ১৫-১৬ হাজার ভক্ত কোনো কিছু না বুঝে রথের রশি একপাশ থেকে টানতে থাকায় চূড়া নামানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রথের মূল কাঠামোয় কাঠের সঙ্গে বিদ্যুৎবাহী লোহা ও ধাতব ছিল। এটি প্রায় ১২ ফুট লম্বা ও উচ্চতায় ছিল প্রায় ৩২ ফুট। আর বিদ্যুতের তার ছিল প্রায় ২৮ ফুট উচ্চতায়। যে চূড়ায় বিদ্যুৎ স্পর্শ করেছে, সেটিও বিদ্যুৎবাহী ছিল। উচুঁ বেশি থাকায় সময়মতো ওঠানামা না করতে পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৩৮ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দুজন আইসিইউতে। আর দুজনকে গতকাল উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে একজন মারা গেছেন এবং সেখানে আরো তিনজন চিকিৎসাধীন।
বগুড়ার সিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মিলাদুন্নবী জানান, শজিমেক হাসপাতালে মৃত চারজন হলেন—বগুড়া সদরের নরেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে অলোক কুমার সরকার (৪২), বগুড়া শহরের লকেশ্বর চন্দ্র সরকারের স্ত্রী আতশি রানী (৪৫), আদমদীঘি উপজেলার ভবানী মহন্তের ছেলে নরেশ মোহন্ত (৬০) ও শাজাহানপুর উপজেলার রঞ্জিতা মহন্ত (৬০)। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মারা যাওয়া সারিয়াকান্দি উপজেলার বাসুদেব সাহার স্ত্রী জলি রানী সাহা (৪০)।










