ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে সড়কে জন্ম নেয়া ও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া নবজাতক ফাতেমাকে রাজধানীর আজিমপুর ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাইক্রোবাসযোগে শিশুটিকে ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি ওই শিশুকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ ও দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলুর কাছে হস্তান্তর করেন। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী শিশুটির নাম রাখা হয় ফাতেমা আক্তার। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। নাতনিকে ঢাকায় রেখে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু।

ত্রিশাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা দুপুর আড়াইটায় আজিমপুর ছোটমণি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক জুবলী বেগম বানুর কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করেছি। জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক সময়ের জন্য এখানে রাখা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে আমি ও ময়মনসিংহ জেলা সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) খালাম্মা তাহমিনা আক্তার স্বপ্না, শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, শিশুটির বোন জান্নাতুল ফেরদৌসী জান্নাত এবং একজন পুলিশ অফিসারসহ তিনজন পুলিশ সদস্য নবজাতককে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। সকালে মমেক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চত্বর থেকে উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি, হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু ও নবজাতক) ডা. মো. নজরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ নবজাতককে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে বিদায় জানান।

ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবজাতককে ঢাকা আজিমপুর ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি তত্ত্বাবধানে নবজাতককে দেখাশোনা করা হবে। আমরা যথাসম্ভব সবসময় শিশুটির খোঁজ রাখব।’

নবজাতক শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বণিক বার্তাকে জানান, এতিম এ শিশুটির নাম ফাতেমা আক্তার রাখার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক এবং কমিটির সদস্যরা সবাই মিলে ‘ফাতেমা আক্তার’ নাম রাখায় আমরা খুশি।

গত ১৬ জুলাই দুপুরে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০) তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না আক্তার (৩০) ও  মেয়ে সানজিদা আক্তার (৬) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা রত্না আক্তারের পেট ফেটে বেরিয়ে আসে এ নবজাতক।