বরিশালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ১৯৬৪-৬৫ সালে নগরীর আমতলা মোড়ে তিনতলাবিশিষ্ট ছয়টি ও দুইতলাবিশিষ্ট দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এসব ভবনের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের। তবে আটটি ভবনই এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এক বছর আগে এসব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে ৮২টি পরিবারের অধিকাংশই চলে যায়। তবে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে ২০টি পরিবার।
বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ভবনগুলোয় বসবাসরত সবাইকে ফ্ল্যাট খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ৮২টি পরিবারের মধ্যে অধিকাংশই চলে যায়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও এখনো অন্তত ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ ভবনগুলোয় বসবাস করছে। ভবন থেকে তাদের নামানোর জন্য বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। অবশ্য মানবিক বিবেচনায় পরে আবার সংযোগ দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২টিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীরা থাকছেন। তিনটিতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীরা থাকছেন দুটিতে, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী রয়েছেন একটিতে ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এক নার্স রয়েছেন একটি ফ্ল্যাটে। ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে আর কেউ ভাড়া দিচ্ছেন না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শতবর্ষী কোয়ার্টারের কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বহিরাগতরা খালি ফ্ল্যাটে মাদক সেবনসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। এমনকি তারা ভবনগুলোর দরজা-জানালা খুলে বিক্রিও করে দিচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারী ইসলাম হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে রয়েছি, ছেলেমেয়ে আশপাশের স্কুল-কলেজ লেখাপড়া করে। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিজেরা মেরামত করে থাকছি। সময়-সুযোগ বুঝে অন্যত্র চলে যাব।’
বরিশাল জেলা জজের সাবেক গাড়িচালক আব্দুল সত্তার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও থাকছি। দীর্ঘদিন থাকার কারণে এখানে সবার সঙ্গে একটা হৃদ্যতা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া নিজেদের বাড়িঘরের মতো ফ্ল্যাটের আশপাশের আঙিনায় সবজির চাষ করা যায়। শিগগিরই নতুন বাসা দেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে যাব।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড আমতলা পানির ট্যাংকসংলগ্ন ৮২ ইউনিট সরকারি কোয়ার্টারের সব ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। শতবছরের পুরনো ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। এর মধ্যেই বসবাস করছে ২০টি পরিবার। গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত ভবনগুলো এখন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের উপযোগী নেই। এগুলো এত পুরনো যে ব্যবহার বা বসবাসের মতো অবস্থা নেই।
সরজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ দ্বিতল ও তিনতলা আটটি ভবনের দরজা-জানালা, সিঁড়ির রেলিংয়ের কাঠ ভেঙে গেছে কয়েক জায়গায়। ভবনের গায়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে ঝোলানো সতর্কবার্তায় লেখা রয়েছে, ‘ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী, এখানে অবৈধভাবে বসবাসরত সব ফ্ল্যাট খালি করার নির্দেশ দেয়া হলো। অবৈধভাবে বসবাসরত সব ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ অথচ ভবনগুলোর কয়েকটি ফ্ল্যাটে ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা।’
এ ব্যাপারে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভবনগুলো থেকে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে একাধিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। পরে ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বসবাস অনুপযোগীর নোটিস টানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবু ২০টি পরিবার সেখানে বসবাস করছে।’
তিনি বলেন, ‘বসবাসরত পরিবারগুলোকে নামানোর জন্য কোয়ার্টারের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করাও হয়েছিল। পরে মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পুনরায় সংযোগ দেয়া হয়। তবে যাতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে।’










